চোখের আলো নেই, কিন্তু মনের গভীরে লুকিয়ে থাকা সুরের জোরেই সমাজের মূল স্রোতে জায়গা করে নেওয়ার অদম্য লড়াই। ক্যালকাটা ব্লাইন্ড স্কুলের একঝাঁক পড়ুয়া আর এক খুদে শিল্পীর বাস্তব জীবনের সেই লড়াইয়ের কোলাজ এবার উঠে এল সেলুলয়েডে। শনিবার চয়নী কলা সঙ্গম ও এফএমডি বাংলার যৌথ নিবেদনে মুক্তি পেল স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি ‘আঁখি’। সল্টলেকের এক প্রেক্ষাগৃহে আয়োজিত ছবির প্রিমিয়ারে হাজির ছিলেন টলিউডের একঝাঁক সংস্কৃতি কর্মী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা।
দৃষ্টিহীনের সুরের লড়াই! রূপোলি পর্দায় দৃষ্টিহীনদের যাপনচিত্র নিয়ে এল ‘আঁখি’
Sponsored


Sponsored

পরিচালক লোপামুদ্রা মুখোপাধ্যায়ের এটি দ্বাদশ ছবি। ৪৫ মিনিটের এই তথ্যচিত্রধর্মী ছবিতে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছে খুদে শিল্পী অহনা চক্রবর্তী। বাস্তব জীবনেও দৃষ্টিহীন অহনা এই প্রথম ক্যামেরার মুখোমুখি। তা সত্ত্বেও তাঁর অভিনয় ও ছবির সংলাপে ফুটিয়ে তোলা আবেগ ছুঁয়ে গিয়েছে দর্শকদের। প্রথমবার অভিনয়ের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে অহনা বলে, প্রথমে একটু ভয় লাগলেও পরে লোপাদির আশকারা আর সহযোগিতায় সব সহজ হয়ে গিয়েছিল। ছবিতে রবীন্দ্রনাথের ‘সখী, ভাবনা কাহারে বলে’ গানটি নিজের গলায় গেয়ে শুনিয়েছে সে।
Sponsored


Sponsored

ছবির শুটিংয়ের বড় অংশ জুড়েই রয়েছে ক্যালকাটা ব্লাইন্ড স্কুলের চত্বর। সেখানকার আবাসিক ছাত্রছাত্রীদের জীবনের রোজনামচা, সুখ-দুঃখ ও লড়াইয়ের গল্প ফ্রেমবন্দি করেছেন পরিচালক। ছবিতে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় দেখা গিয়েছে বিশিষ্ট ড্রামার ও সংগীতশিল্পী রূপম কর বক্সীকে। একটি মিউজিক্যাল কনটেস্টের দৃশ্যে বিশেষ দুটি চরিত্রে অভিনয় করেছেন তবলাশিল্পী তথা সুরকার মন্দার ঘোষ ও বাচিক শিল্পী মল্লিকা ঘোষ।
Sponsored


Sponsored

শহরের এই বিশেষ উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন প্রখ্যাত গায়িকা ঊষা উথুপ। তিনি বলেন, চোখের আলো থাকাটাকে আমরা খুব স্বাভাবিক বলে ধরে নিই। কিন্তু যাঁরা এই আলো থেকে বঞ্চিত, তাঁদের জীবনের লড়াই ও প্রতিভাকে এভাবে সম্মান জানানো সত্যি দরকার। ছবিটির সাফল্য কামনা করেছেন তিনি।
রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক ছবির চেনা ছক ভেঙে কেন এমন সমাজ সচেতনতামূলক বিষয়ের দিকে ঝুঁকছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে পরিচালক লোপামুদ্রা মুখোপাধ্যায় বলেন, প্রতি দুই-তিন মাস অন্তর আমরা এমন কিছু ছবি তৈরি করার চেষ্টা করি, যা সমাজে একটা বার্তা দেবে। এই বিশেষ শিশুদের মধ্যে যে ঈশ্বরপ্রদত্ত প্রতিভা লুকিয়ে রয়েছে, তা আমজনতার সামনে তুলে ধরাই আমাদের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক এবং সংস্কৃতি মহলের মতে, বিনোদনের পাশাপাশি এমন সমাজমুখী স্বল্পদৈর্ঘ্যের ছবি বিশ্ব দরবারে বাংলা সিনেমার মানকে আরও উন্নত করবে।
আরও পড়ুন- তৃণমূল ছাড়লেন মানস ভুঁইয়া: মমতাকে চিঠি
_
_
_
_
_












