দীর্ঘ ২৫ বছরের সশস্ত্র আন্দোলনের জীবন ছেড়ে অবশেষে মূলস্রোতে ফেরার সিদ্ধান্ত নিলেন নিলেন জঙ্গলমহলের (Jangalmahal) একসময়ের মাওবাদী নেত্রী (Maoist leader) পুষ্পা ওরফে শকুন্তলা (Pushpa alias Shakuntala)। বুধবার (Wednesday) কলকাতায় পুলিশ কমিশনারের অফিসে (Police Commissioner's Office in Kolkata) এসে আত্মসমর্পণ (Surrender) করেন তিনি। এবং নিজের আগ্নেয়াস্ত্র (Firearm) প্রশাসনের হাতে তুলে দেন। পুনর্বাসনের সুযোগ ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশ্বাসে ভরসা রেখেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলেই জানা গিয়েছে।
২৫ বছর পর অস্ত্র ত্যাগ পুষ্পার, মূলস্রোতে ফেরার বার্তা
Sponsored

পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলপাহাড়ি (Belpahari) এলাকার বাসিন্দা পুষ্পা ২০০১ সালে অল্প বয়সেই মাওবাদী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন। প্রথমদিকে সংগঠনের সাংস্কৃতিক শাখায় কাজ করলেও পরবর্তীতে ধীরে ধীরে সশস্ত্র বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হয়ে ওঠেন। ঝাড়খণ্ড (Jharkhand), বিহার (Bihar) ও ওড়িশা (Odisha) সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন সক্রিয় ছিলেন তিনি। তাঁর মাথার দাম ১০ লক্ষ টাকা ঘোষণা করা হয়েছিল বলেও জানা যায়। কলকাতা পুলিশের যুগ্ম কমিশনার অজয় নন্দ (Kolkata Police Joint Commissioner Ajay Nanda) জানান, শকুন্তলা দলমা স্কোয়াডের জোনাল কমিটির (Zonal Committee of the Dalma Squad) সদস্য ছিলেন। পরে মাওবাদী নেতা মিসির বেসরার (Maoist leader Misir Besra) নির্দেশে সারান্ডার জঙ্গলে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন তিনি। যদিও মিসির বেসরা এখনও কিছু সহযোগীকে নিয়ে ওই এলাকায় সক্রিয় রয়েছে বলে পুলিশের (Police) দাবি।
Sponsored

আত্মসমর্পণের পর পুষ্পা (Pushpa) জানান, দীর্ঘদিনের সংঘাতময় জীবন পিছনে ফেলে এবার তিনি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। সরকারের পুনর্বাসন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা এবং নতুনভাবে জীবন গড়ার সুযোগ তাঁকে এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে বলে জানান তিনি। একইসঙ্গে এখনও যারা অস্ত্রের পথ বেছে নিয়ে জঙ্গলে সক্রিয় রয়েছেন, তাঁদের উদ্দেশেও বার্তা দেন প্রাক্তন এই মাওবাদী নেত্রী। তাঁর বক্তব্য, হিংসা ও বন্দুকের রাজনীতিতে কোনও স্থায়ী সমাধান নেই। তাই সমাজের মূলধারায় ফিরে এসে শান্তিপূর্ণ জীবন বেছে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রশাসনিক মহলের মতে, জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপের অবশিষ্ট প্রভাব কমানোর ক্ষেত্রে এই আত্মসমর্পণ একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ।
Sponsored

তবে আত্মসমর্পণের পর নতুন জীবনের পথে পা রাখলেও পুষ্পার পরিবারের আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, এখনও আর্থিক অনটনের মধ্যেই দিন কাটাচ্ছে তাঁর পরিবার। তাই পুনর্বাসন ও সামাজিক নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের সক্রিয় উদ্যোগের দাবি উঠেছে এলাকায়।
Sponsored

-
Sponsored

-
Sponsored

-
-
-
-
More from রাজ্য
View All →
রাজ্যসভার ৩ আসনে উপনির্বাচন ২৪ জুলাই, নির্ঘণ্ট প্রকাশ কমিশনের
Jul 6

আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জন্মজয়ন্তীতে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, আত্মত্যাগকে স্মরণ মোদির
Jul 6

বঙ্গে ফের ভোটের দামামা, রাজ্যসভার উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা কমিশনের
Jul 6

শ্যামাপ্রসাদ জয়ন্তীতে ‘শাহী’ আয়োজন রাজ্য সরকারের, শ্রদ্ধা নিবেদন শমীক-দিলীপের
Jul 6






