নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়লেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়াল। সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ডাকা উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে যখন আমলা ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে, তখনই তড়িঘড়ি বিজ্ঞপ্তি জারি করে তাঁকে রাজ্যের নতুন মুখ্যসচিব হিসেবে ঘোষণা করে সরকার। ১১ মে প্রকাশিত এই নিয়োগপত্রের সময়কাল নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। প্রশাসনিক মহলের প্রশ্ন, তাঁকে যদি বৈঠকেই রাখতে হত, তবে নিয়ম মেনে কেন আগেই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হলো না?
নবান্নের বৈঠকে মনোজ আগরওয়াল! প্রশ্ন উঠতেই মনোজকে মুখ্যসচিব ঘোষণা রাজ্যের
Sponsored

সোমবার সন্ধ্যায় নবান্ন থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে মনোজ কুমারের নাম ঘোষণা প্রত্যাশিত হলেও, দায়িত্ব গ্রহণের আগেই প্রশাসনিক রীতিনীতি ভঙ্গের এক নয়া বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছেন তিনি। বিতর্কের মূলে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর পাশে নবান্নের প্রশাসনিক বৈঠকে তাঁর আকস্মিক উপস্থিতি। নীতিনির্ধারণী এই বৈঠকে যখন মনোজ আগরওয়ালকে মুখ্যমন্ত্রীর ঠিক পাশের আসনে বসে থাকতে দেখা যায়, তখনও তিনি কাগজে-কলমে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) পদে আসীন। নিয়ম অনুযায়ী, একজন আধিকারিক যতক্ষণ নির্বাচন কমিশনের অধীনে কর্মরত থাকেন এবং আনুষ্ঠানিক ‘রিলিজ অর্ডার’ না পান, ততক্ষণ তিনি রাজ্য সরকারের কোনো নীতিনির্ধারণী বা প্রশাসনিক বৈঠকে অংশ নিতে পারেন না। এই রীতির তোয়াক্কা না করেই তিনি কীভাবে বৈঠকে যোগ দিলেন, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অভিজ্ঞ আমলাদের একাংশ।
Sponsored

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিরোধী শিবিরের অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির জয়ের ‘নেপথ্য কারিগর’ হিসেবে কাজ করার পুরস্কার হিসেবেই মনোজ আগরওয়ালকে এই পদ দেওয়া হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, সিইও পদে থাকাকালীন তিনি এসআইআর-এর নামে লক্ষ লক্ষ ভোটারের তথ্য পাচার এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কারচুপি করে বিজেপিকে অনৈতিক সুবিধা করে দিয়েছেন। সোমবারের এই দ্রুত নিয়োগ সেই গুঞ্জনকেই সত্যি প্রমাণ করল বলে দাবি তাঁদের।
Sponsored

শুভেন্দু অধিকারীর সরকার বারবার প্রশাসনিক শৃঙ্খলার কথা বললেও, কার্যক্ষেত্রে প্রথম দিন থেকেই নিয়মকানুনকে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখানো হচ্ছে বলে তোপ দেগেছেন বিরোধী নেতারা। তাঁদের মতে, যে আধিকারিক নিরপেক্ষভাবে নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন, তিনি ফল প্রকাশের অব্যবহিত পরেই কীভাবে শাসকদলের ‘ছায়াসঙ্গী’ হয়ে উঠলেন, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। সব মিলিয়ে, দায়িত্বভার গ্রহণ করার দিনেই নতুন মুখ্যসচিবের ভূমিকা এবং রাজ্য সরকারের প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা বড়সড় আইনি ও নৈতিক প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। এই বেনজির ঘটনা প্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী বিতর্ক উসকে দিল।
Sponsored

আরও পড়ুন - সোমনাথ মন্দির ভারতের আত্মগৌরবের প্রতীক: পুনর্নির্মাণের ৭৫ বছর পূর্তিতে বার্তা প্রধানমন্ত্রীর
Sponsored

_
Sponsored

_
_
_
More from রাজ্য
View All →
রাজ্যসভার ৩ আসনে উপনির্বাচন ২৪ জুলাই, নির্ঘণ্ট প্রকাশ কমিশনের
Jul 6

আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জন্মজয়ন্তীতে শ্যামাপ্রসাদকে নিয়ে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, আত্মত্যাগকে স্মরণ মোদির
Jul 6

বঙ্গে ফের ভোটের দামামা, রাজ্যসভার উপনির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণা কমিশনের
Jul 6

শ্যামাপ্রসাদ জয়ন্তীতে ‘শাহী’ আয়োজন রাজ্য সরকারের, শ্রদ্ধা নিবেদন শমীক-দিলীপের
Jul 6






