বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের পরাজয়ের পর লোকসভাতে বিদ্রোহ ঘোষণা করে তৃণমূল কংগ্রেসের আলাদা ব্লক তৈরিতে আগ্রহ দেখিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার (Kakali Ghosh Dastidar)। শুধু তাই নয় এনডিএ সরকারকে (NDA Government) সমর্থন করার তালিকায় সবার আগে আলোচনায় উঠে এসেছে তাঁর নাম। এরপরই রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয় তাহলে কি তৃণমূল সাংসদ পুত্রকে বিধায়ক নির্বাচনের টিকিট না দেওয়াতেই তিনি ' বিদ্রোহী' ? নাম না করে আক্রমণ শানিয়েছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Mamata Banerjee)। এবার সাফাই দিতে আসরে নামলেন কাকলিপুত্র ড.বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদার (Dr Baidyanath Ghosh Dastidar)। তৃণমূল সুপ্রিমো-সহ পাঁচজনকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন তিনি। তাহলে কি ঘুরপথে তৃণমূলের অভিযোগকেই সত্যি বলে প্রমাণ করে দিলেন বৈদ্যনাথ,উঠছে প্রশ্ন। বিধানসভা রাজ্যসভা লোকসভার সর্বোচ্চ তৃণমূলের ভাঙ্গন কার্যত স্পষ্ট হয়ে গেছে। বিক্ষুব্ধ সাংসদ কাকলি (Kakali Ghosh Dastidar) যতই দলের মধ্যে দম বন্ধ হয়ে যাওয়া অবস্থার কথাকে শিখন্ডি করে নিজের পদক্ষেপের নেপথ্যে যুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করুন না কেন, রাজনৈতিক মহলে রীতিমত চর্চায় রয়েছে তাঁর ছেলের টিকিট না পাওয়ার বিষয়টি।সম্প্রতি মমতার তরফ থেকে বৈদ্যনাথের টিকিটের বিষয় নিয়ে মন্তব্যের প্রেক্ষিতে সাংসদপুত্র সাফাই দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তৃণমূলের বক্তব্যকে মিথ্যা ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আখ্যা দিয়ে আইনি পথ বেছে নিয়েছেন তিনি। নোটিশ পাঠানো হয়েছে স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সহ মহুয়া মৈত্র, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, সৌগত রায় ও সোনালী গুহর মতো নেতাদের বিরুদ্ধে। আইনি নোটিশে লেখা হয়েছে, বারাসত বিধানসভা কেন্দ্র থেকে বৈদ্যনাথ ঘোষ দস্তিদারকে প্রার্থী করতে চাওয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য প্রচার চালানো হচ্ছে।এই ধরনের কোনও উচ্চাকাঙ্ক্ষাও তাঁর ছিল না। আই-প্যাক এবং টিএমসিপির ওপর দায় চাপিয়ে বিস্ফোরক দাবি করে নোটিসে বলা হয়েছে, প্রশান্ত কিশোরের সংস্থা ‘আই-প্যাক’ এবং বারাসত জেলা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের তৎকালীন সভাপতি সোহম পালই নাকি দিনের পর দিন হোয়াটসঅ্যাপ এবং ফোনের মাধ্যমে বৈদ্যনাথকে বারাসত থেকে নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য জোরাজুরি করেন। এমনকি বারাসতে বিভিন্ন স্বাস্থ্য শিবিরে হাজির থাকার জন্যও তাঁর ওপর ক্রমাগত চাপ সৃষ্টি করা হত। বৈদ্যনাথের পাঠানো নোটিশে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি ১৫ দিনের মধ্যে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিঃশর্ত ক্ষমা চাইতে বলা হয়েছে। ঘাসফুল শিবিরের (TMC) তরফে অবশ্য এই নিয়ে এখনও পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া মেলেনি। - - - - - -