লাঙল-জোয়াল আর ঘাম ঝরানো পরিশ্রমের দিন কি তবে শেষ হতে চলেছে? ভারতীয় কৃষিক্ষেত্র এখন দাঁড়িয়ে আছে এক ডিজিটাল বিপ্লবের দোরগোড়ায়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫ সালের গ্লোবাল এআই ভাইব্র্যান্স টুল অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর দৌড়ে ভারত এখন বিশ্বের তৃতীয় স্থানে। আর এই প্রযুক্তির সবথেকে বড় সুফল পেতে চলেছেন দেশের অন্নদাতারা। উপগ্রহ চিত্র থেকে ড্রোন— আধুনিক বিজ্ঞানের সবটুকু নির্যাস ব্যবহার করে চাষিকে ‘স্মার্ট’ করে তোলাই এখন লক্ষ্য কেন্দ্রের।
ডিজিটাল বিপ্লব এবার চাষের জমিতে, মগজ খাটাবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা
Sponsored

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আসলে কী? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি এমন এক প্রযুক্তি যা মানুষের মস্তিষ্কের মতো তথ্য বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারে। মাটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা থেকে শুরু করে কোন জমিতে কখন সার দিতে হবে, এমনকি আবহাওয়ার মেজাজ বুঝে ফসলের রোগ নির্ণয়— সবটাই এখন যন্ত্রের হাতের মুঠোয়। ভারতের ১২টি রাজ্যে প্রায় ১৮ লক্ষ কৃষক ইতিপূর্বেই এই প্রযুক্তির সুবিধা নিতে শুরু করেছেন। ই-নাম বা সয়েল হেলথ কার্ডের মতো সরকারি প্রকল্পগুলি এখন এআই-এর মাধ্যমে বাজারদর বিশ্লেষণ করে কৃষকদের জানাচ্ছে ঠিক কখন ফসল বিক্রি করলে মিলবে ন্যায্য মূল্য।
Sponsored

এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে বাস্তবায়িত করতে ২০২৪ সালে শুরু হয়েছে ‘ডিজিটাল এগ্রিকালচার মিশন’। সরকার এই প্রকল্পে কয়েক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। তৈরি হচ্ছে ‘এগ্রিস্ট্যাক’ বা কৃষকদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র। গত নভেম্বর পর্যন্ত প্রায় সাড়ে সাত কোটির বেশি কৃষক এই পরিচয়পত্র পেয়েছেন, যার মধ্যে প্রায় দুই কোটি মহিলা। লক্ষ্য একটাই, কৃষকের জমির তথ্য এবং সরকারি পরিষেবাকে এক সুতোয় গেঁথে ফেলা।
Sponsored

বীমা এবং ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকদের রাত জাগার দিনও ফুরোচ্ছে। ‘ইয়েস-টেক’ এবং ‘ক্রপিক’ অ্যাপের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতির ছবি তুলে পাঠালেই দ্রুত বিমার টাকা মেলার রাস্তা প্রশস্ত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনার মাধ্যমে কয়েক কোটি কৃষক উপকৃত হচ্ছেন, যেখানে প্রিমিয়ামের সামান্য অংশ কৃষক দিলেও সিংহভাগ দায়িত্ব বহন করছে সরকার।
Sponsored

সম্প্রতি ভারত সরকার প্রকাশ করেছে ‘ফিউচার ফার্মিং ইন ইন্ডিয়া: এআই প্লেবুক ফর এগ্রিকালচার’। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সহযোগিতায় তৈরি এই নির্দেশিকা মূলত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বাবলম্বী করার পথ দেখাচ্ছে। মাটির পুষ্টি থেকে কীটপতঙ্গের পূর্বাভাস— সব ক্ষেত্রেই এআই হবে কৃষকের প্রধান উপদেষ্টা। সরকারের এই নতুন মডেলে তিনটি স্তম্ভের কথা বলা হয়েছে— এনেবল, ক্রিয়েট এবং ডেলিভার। অর্থাৎ পরিকাঠামো তৈরি করা, উদ্ভাবন করা এবং সেই সুফল সরাসরি চাষির জমিতে পৌঁছে দেওয়া।
Sponsored

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রযুক্তিগত রূপান্তর কেবল উৎপাদন বাড়াবে না, বরং চাষের খরচ কমিয়ে কৃষকের আয় নিশ্চিত করবে। তথ্যের ভাণ্ডার এবং যন্ত্রের বুদ্ধি যখন এক হচ্ছে, তখন ভারতের কৃষিব্যবস্থা যে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে, তা বলাই বাহুল্য। প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা শেষ পর্যন্ত সাধারণ কৃষকের ঘরে কতটা লক্ষ্মী ফেরাতে পারে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে দেশ।
Sponsored

More from দেশ
View All →
জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5

ই-২০ পেট্রোল নীতি নিয়ে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ, যন্তর মন্তরে ধর্না
Jul 5

আজ কোথায় কত দামে মিলছে পেট্রোল-ডিজেল? দেখে নিন এক নজরে
Jul 5

স্বামী খুনের পর দেহ লুকোতে মেঝেতে টাইলস বসালেন স্ত্রী, ৪৫ দিন পর উদ্ধার দেহ
Jul 4

দানসামগ্রী নিয়ে ফের অনিয়মের অভিযোগ, এবার কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র
Jul 4






