ভারতের নীল অর্থনীতি বা 'ব্লু ইকোনমি'র প্রসারে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ করল কেন্দ্রীয় সরকার। সমুদ্রের এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন (ইইজেড) এলাকায় মাছ ধরার জন্য জাতীয় পর্যায়ে ‘অ্যাক্সেস পাস’ ব্যবস্থার আনুষ্ঠানিক সূচনা হল। গত বৃহস্পতিবার গুজরাটের ভেরাভালের কেসিসি গ্রাউন্ডে আয়োজিত একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় মৎস্য ও পশুপালন মন্ত্রী রাজীব রঞ্জন সিং এই পরিষেবার উদ্বোধন করেন। এর ফলে গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণের ক্ষেত্রে ভারতীয় মৎস্যজীবীদের সামনে এক নতুন দিগন্ত খুলে গেল বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
মৎস্যশিকারে নয়া দিগন্ত, গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে ‘অ্যাক্সেস পাস’ আনল কেন্দ্র
Sponsored

ভারতের প্রায় ১১ হাজার কিলোমিটার দীর্ঘ উপকূলরেখা এবং ২৪ লক্ষ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত ইইজেড অঞ্চল মৎস্য সম্পদে অত্যন্ত সমৃদ্ধ। বিশেষ করে টুনা জাতীয় মাছের বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও এতদিন পরিকাঠামো ও আইনি জটিলতার কারণে ভারতীয় মৎস্যজীবীরা উপকূল থেকে মাত্র ৪০-৫০ নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতেন। এবার ১২ থেকে ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত গভীর সমুদ্রে প্রবেশের আইনি ছাড়পত্র মিলল এই পাসের মাধ্যমে। ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের কেন্দ্রীয় বাজেটে ঘোষিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত করতে ইইজেড বিধিমালা ২০২৫ কার্যকর করা হয়েছে।
Sponsored

এদিনের অনুষ্ঠানে দেশের ১৩টি উপকূলীয় রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ২৪টি মৎস্যজীবী সমবায় সমিতির প্রতিনিধিদের হাতে অ্যাক্সেস পাস তুলে দেওয়া হয়। সুবিধাভোগীদের তালিকায় নাম রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের সুবোধ কান্ডার এবং রাধাকৃষ্ণ মান্নার। মন্ত্রী জানান, এই উদ্যোগ মাছ ধরার প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, নিরাপদ এবং নিয়ন্ত্রিত করবে। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক মৎস্যজীবীদের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে এই নীতিতে। প্রথাগত এবং ছোট মোটরচালিত নৌকাগুলিকে এই পাসের আওতা থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। শুধুমাত্র যান্ত্রিক ও ২৪ মিটারের বেশি দৈর্ঘ্যের বড় জাহাজের ক্ষেত্রে এই পাস বাধ্যতামূলক।
Sponsored

ডিজিটাল ইন্ডিয়ার ভাবনার সঙ্গে সাযুজ্য রেখে পুরো প্রক্রিয়াটি ‘রিয়েলক্রাফ্ট’ (ReALCRaft) পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে পরিচালিত হবে। মৎস্যজীবীরা সম্পূর্ণ নিখরচায় এই পাসের জন্য আবেদন করতে পারবেন। এই পোর্টালটি মেরিন প্রোডাক্টস এক্সপোর্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (এমপিইডিএ) এবং এক্সপোর্ট ইন্সপেকশন কাউন্সিলের সঙ্গে যুক্ত থাকায় মাছ ধরা থেকে শুরু করে রপ্তানি পর্যন্ত সমস্ত তথ্য এক জানলা ব্যবস্থার মাধ্যমে পাওয়া যাবে। এতে ভারতীয় সামুদ্রিক পণ্যের আন্তর্জাতিক বাজারে গ্রহণযোগ্যতা ও গুণমান নিশ্চিত করা সহজ হবে।
Sponsored

মৎস্যজীবীদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে কেন্দ্র ইতিমধ্যেই এক লক্ষ ট্রান্সপন্ডার বসানোর কাজ শুরু করেছে। যার মধ্যে ৫০ হাজারেরও বেশি যন্ত্র ইতিমধ্যেই লাগানো হয়েছে। এর ফলে দুর্যোগের সময় বা মোবাইল নেটওয়ার্কের বাইরে থাকলেও উপকূলরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা সম্ভব হবে। এছাড়া মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞার সময় আর্থিক সহায়তা এবং দুর্ঘটনা বিমার পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ লক্ষ টাকা করা হয়েছে। গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার আধুনিক কৌশল শেখাতে সিআইএফএনইটি এবং এফএসআই-এর মাধ্যমে বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করছে কেন্দ্রীয় মৎস্য দফতর।
Sponsored

Sponsored

_
_
_
_
_
More from দেশ
View All →
জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5

ই-২০ পেট্রোল নীতি নিয়ে কেন্দ্রকে চ্যালেঞ্জ, যন্তর মন্তরে ধর্না
Jul 5

আজ কোথায় কত দামে মিলছে পেট্রোল-ডিজেল? দেখে নিন এক নজরে
Jul 5

স্বামী খুনের পর দেহ লুকোতে মেঝেতে টাইলস বসালেন স্ত্রী, ৪৫ দিন পর উদ্ধার দেহ
Jul 4

দানসামগ্রী নিয়ে ফের অনিয়মের অভিযোগ, এবার কেন্দ্রবিন্দুতে উত্তরাখণ্ডের বিখ্যাত তীর্থক্ষেত্র
Jul 4






