গ্রিনল্যান্ডের দখলদারি নিয়ে মার্কিন আগ্রাসী নীতির বিরুদ্ধে অবশেষে এক জোট হয়েছিল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের (European Union) দেশগুলি। আর তাতেই ট্রাম্পের শুল্কের (tariff) হুমকি। ইংল্যান্ড, জার্মানি, ফ্রান্স-সহ বড় দেশগুলির উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুমকি দেন ট্রাম্প (Donald Trump)। এরপরই ফের একবার প্রশ্নের মুখে গ্রিনল্যান্ডের (Greenland) স্বাধীনতা। শুল্কের ভয়ে ইউরোপের বৃহৎ দেশগুলি কী গ্রিনল্য়ান্ডের পাশ থেকে সরে দাঁড়াবে, সেই প্রশ্ন উঠতেই ফের সরব ফ্রান্স। ট্রাম্পের এই ধরনের হুমকির পরে এমানুয়েল ম্য়াক্রোঁ (Emmanuel Macron) দাবি করেন, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যৌথভাবে শুল্কের হুমকির জবাব দেবে।
গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ২৫ শতাংশ শুল্ক ট্রাম্পের: জবাব দেবে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন, দাবি ম্যাক্রোঁর
Sponsored

গ্রিনল্যান্ডের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তার রক্ষায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সাহায্য দাবি করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিক নিয়েলসেন। ডেনমার্ক নিজেদের অধিকার নিয়েই গ্রিনল্যান্ডের পাশে দাঁড়িয়েছিল। তবে নিজের দেশের নিরাপত্তা ও প্রতিবেশী হিসাব রাশিয়া ও চিনকে চান না বলে গ্রিনল্য়ান্ড অধিগ্রহণই করে নিতে চেয়েছিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেই পরিস্থিতিতে আমেরিকার সঙ্গে যাওয়ার প্রস্তাব উড়িয়ে দিয়ে ডেনমার্ককে বেছে নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিয়েলসেন।
Sponsored

এরপরই গ্রিনল্যান্ডের উপর হুঁশিয়ারি দেওয়া শুরু করেন ট্রাম্প। শনিবার ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টার্মার (Keir Starmer), ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ গ্রিনল্যান্ডের রক্ষার্থে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়ানো ও সবরকম সহযোগিতার বার্তা দেন। এমনকি ম্যাক্রোঁ আরও একধাপ এগিয়ে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন আগ্রাসনের তুলনা করেন।
Sponsored

ইউরোপের শক্তিধর দেশগুলির এই প্রতিক্রিয়ায় চুপ করে যে ডোনাল্ড ট্রাম্প থাকবেন না তা প্রত্য়াশিতই ছিল। গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন বিরোধিতা সম্পর্কে সতর্ক করে আগেই শুল্কের আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি। সেই আশঙ্কাকে সত্যি করে ডোনল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন ইউরোপের ৮ দেশের উপর ১০ শতাংশ শুল্ক চাপাচ্ছেন তিনি। এই আট দেশ হল - ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, সুইডেন, ডেনমার্ক, নরওয়ে, নেদারল্যান্ড, ফিনল্যান্ড। ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শুল্ক লাগু হবে।
Sponsored

আমেরিকার গ্রিনল্যান্ড দখলের প্রতিবাদ যারা করেছে, তাঁদের উপরই শুল্ক চাপানো হচ্ছে। স্পষ্ট জানিয়ে দেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে এই হুমকি যে তাঁর ফাঁকা আওয়াজ নয়, তা বোঝাতে আরও জানান, এই দেশগুলির উপর ১ জুন থেকে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক চাপানো হবে। আর এই শুল্ক ততদিন পর্যন্ত লাগু থাকবে, যতদিন না গ্রিনল্যান্ড সম্পূর্ণভাবে কিনে নিতে (pruchase of Greenland) সফল হচ্ছে আমেরিকা।
Sponsored

Sponsored

ট্রাম্পের এই হুমকির পরে স্বাভাবিকভাবেই দুর্বল ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের নীতির উপর সন্দেহ তৈরি হয়। হুমকির মুখে পড়ে ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও ন্যাটোভুক্ত দেশগুলি কতটা নিজেদের বক্তব্যে অটল থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তবে শনিবারই বিবৃতি দিয়ে ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) জানিয়ে দেন, শুল্ক (tariff) নিয়ে চাপ দেওয়া কোনও নৈতিক কাজ নয়। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন যৌথভাবে এর উত্তর দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। একই সঙ্গে ন্যাটো-র সহযোগী দেশ হিসাবে গ্রিনল্য়ান্ডে মার্কিন আগ্রাসনের বিরোধিতায় সরব মার্ক কার্নি। গ্রিনল্যান্ডের অধিকার ডেনমার্কের হাতে থাকার সমর্থন জানান তিনিও।
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







