“ভোটের সময়ে বহিরাগতরা আপনার এলাকায় বসে আছে। বাইরে থেকে লোক নিয়ে এসে হোটেল বুক করে টাকা ডিস্ট্রিবিউশন করছে। কেউ উত্তরপ্রদেশ, কেউ রাজস্থান, কেউ মধ্যপ্রদেশ, কেউ অসম থেকে এসেছে“- আলিপুরদুয়ারের দলীয় প্রার্থী সুমন কাঞ্জিলালের সমর্থনে সভা থেকে বিজেপিকে নিশানা করলেন তৃণমূল (TMC) সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বলেন, “আপনাদের টাকা দেবে বলছে। ওই টাকা নিয়ে ওদের ফাঁকা করে দিন। নিজেদের লোক নেই। এজেন্সির লোকেদের দিয়ে ফর্ম ফিলাপ করছে। বন্যার সময় তারা কোথায় ছিল? বিজেপির বুথে বসার মত কর্মী নেই, সেই কারণেই এজেন্সির মাধ্যমে ফর্ম পূরণ করানো হচ্ছে এবং তাদেরই বুথে বসানো হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ টাকা নিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটানোর চেষ্টা চলছে।“
Sponsored

এরপরেই মোদি সরকারকে নিশানা করে তৃণমূল সুপ্রিমো বলেন, “প্রধানমন্ত্রী বলে গেলেন, নাকি সপ্তম পে কমিশন চালু করবেন। আমরা তো ওটা ফেব্রুয়ারি মাসেই চালু করে দিয়েছি। কিছু বলার আগে প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারটাকে তো একটু সম্মান করুন। মিথ্যা কথা বলার আগে ভাল করে ক্রসচেক করুন। মোদিজি আলিপুরদুয়ার ও জলপাইগুড়িতে পাঁচটি চা বাগান খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু এখনও তা বাস্তবায়িত হয়নি। সেই কাজ আমরা করেছি। রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই সরকারি কর্মীদের ২৫ শতাংশ ডিএ দিয়েছে। শুধু তাই নয়, তাঁদের জন্য একাধিক সুবিধাও রয়েছে; দুর্গাপুজো, কালীপুজো, ছটপুজোসহ বিভিন্ন উৎসবে ছুটি দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রতি পাঁচ বছরে একবার বিদেশে ভ্রমণের সুযোগ এবং রাজ্যের মধ্যেও ঘোরার সুবিধা রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য যেখানে এখনও পেনশন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। ওরা বলে যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গে চাকরি হয়নি। তা আপনাদের চাকরি কোথায় গেল! আপনারা বলেছিলেন ভোটের আগে যে প্রতি বছরে ২ কোটি চাকরি দেবেন। তাতে ১২ বছরে আপনাদেরও ২৪ কোটি চাকরি হওয়ার কথা। কিন্তু রেলে কাজ করার জন্য গ্যাংম্যানও নেই।''
Sponsored

সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বাইরে থেকে আসা বিজেপির এজেন্সিগুলি ফর্ম পূরণের সময় মানুষের নাম, ঠিকানা, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং পরিবারের ফোন নম্বরের মতো ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করছে। ভোট মিটে যাওয়ার পর সেই তথ্যের অপব্যবহার করে অ্যাকাউন্টের টাকা হাতিয়ে নেবে। আমাদের সঙ্গে বিজেপির মূল পার্থক্য হল, আমরা সমস্যার করি সমাধান, আর বিজেপি করে অত্যাচার আর মানুষে মানুষে ব্যবধান। ঝড়, জল, সাইক্লোন বা বন্যার সময় কিংবা ঘরবাড়ি ভেঙে গেলে এবং উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের কোনও দেখা মেলে না। ভোটের সময়ে তাই বলছি, আগামী পাঁচ বছর তোমার দেখা নাই গো, তোমার দেখা নাই। বাংলায় তোমাদের জায়গা নেই। পরিষ্কার। বাংলায় বিজেপির কোনও জায়গা নেই। চা বাগানের শ্রমিকেরা শুনুন, মোদিজি এসে বলেছিলেন আলিপুরদুয়ার-জলপাইগুড়িতে পাঁচটি চা বাগান খুলে দেবেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত খোলেননি। আমরা খুলেছি।“
Sponsored

এরপরেই মহিলা বিল প্রসঙ্গ তুলে মমতা (Mamata Banerjee) বলেন, “অসম থেকে এনআরসি-র নোটিশ পাঠানো হচ্ছে। ভোট চলাকালীন মহিলাদের সংরক্ষণ দেওয়ার নাম করে আসন পুনর্বিন্যাস বিল আনা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যেই প্রায় ৩৭ শতাংশ মহিলা প্রতিনিধিত্ব রয়েছে, যার জন্য আলাদা করে সংরক্ষণ করতে হয়নি। মহিলা সংরক্ষণকে আমি সমর্থন করি, কিন্তু মহিলাদের সংরক্ষণের সঙ্গে একই বিলে কেন আসন পুনর্বিন্যাস যুক্ত করে পশ্চিমবঙ্গকে বিভক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে? এতে মহিলাদের আত্মসম্মানকে আঘাত করা হচ্ছে এবং একপ্রকার ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছে। মহিলা সংরক্ষণ বিল অনেক আগেই পাশ হয়েছে, কিন্তু তা এখনও কার্যকর করা হয়নি কেন?“
Sponsored

-
Sponsored

-
Sponsored

-
-
-
--
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







