রাজ্যে ক্ষমতা দখলের আগে থেকে বুলডোজারের ভয় তৈরি করেছিলেন বিজেপির নেতারা। বিজেপি প্রথমবার বাংলায় ক্ষমতা দখলের পরে সেই আশঙ্কাই সত্যি প্রমাণিত হল। আর সেই বুলডোজারের প্রথম আঘাত শহরের হকারদের উপর। যেভাবে বিনা নোটিশে হকার উচ্ছেদের (hawker eviction) নামে বুলডোজার (bulldozer) দিয়ে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে হকারদের স্টল। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) নির্দেশ দিয়েছিলেন দলীয় কাউন্সিলরদের (councilors) বৈঠকে, এই অত্যাচারিত দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে। শনিবার পার্ক সার্কাসে সৈয়দ আমির আলি এভেন্যুতে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালান তৃণমূল নেতৃত্ব।
৯৬'এর সিপিআইএম আর ২৬'এর বিজেপি সমান: হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদ তৃণমূলের
Sponsored

সাধারণ মানুষের উপর যে অত্যাচারের পথে চলেছে রাজ্যের বিজেপি সরকার, তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তৃণমূল নেতা কর্মীদের রাস্তায় নামার নির্দেশ দেন তৃণমূল নেত্রী। শনিবার সেই নির্দেশ মেনে পার্ক সার্কাসে (Park Circus) বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chatterjee) হকারদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দেন। তিনি জানান, এই অন্যায়ের প্রতিবাদে সকলকে জোট বাঁধতে হবে। সংঘবদ্ধ থাকলে আর কেউ আমাদের উপর এই আঘাত করতে পারবে না।
Sponsored

প্রাক্তন মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য প্রশ্ন তোলেন, এই পরিবর্তন কি মানুষ চেয়েছেন, যেখানে যাঁরা হকার ভাই-বোন তাঁদের প্রতিদিনের জীবন জীবিকা চলার ইন্ধন তা নষ্ট হয়ে যায়? বিজেপি মুখে একরকম বলছে। কাজে আমরা সেই রকম দেখতে পাচ্ছি না।
Sponsored

বিজেপি রাজ্যে যে পদক্ষেপ নিচ্ছে তা ফের সেই বাম আমলকেই মনে করিয়ে দিচ্ছে এমন অভিযোগ করে বিধায়ক কুণাল ঘোষ মনে করিয়ে দেন, ১৯৯৬ সালে যেটা সিপিআইএম ছিল ২০২৬-এ সেটাই বিজেপি হয়ে ফিরে এসেছে। ৯৬ সালে হকারদের (hawker) পেটে লাথি মেরে দেখিয়েছিলেন জ্যোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য, সুভাষ চক্রবর্তী, কান্তি গঙ্গোপাধ্যায়। আজ সেটা বিজেপি দেখাচ্ছে। বহু হকার ভাইদের সংসার এই দোকানগুলির উপর চলে। যখন দোকান বসিয়েছিলেন তখন হয়তো এত রাস্তা চওড়া করার দরকার হয়নি। এখন যখন রাস্তা বাড়াতে হবে, সেখানে তাঁদের পুণর্বাসন ছাড়া তাঁদের স্টল ভাঙা চলবে না।
Sponsored

সেই সঙ্গে এই হকার উচ্ছেদের সঙ্গে পূর্ববর্তী তৃণমূল সরকারের পার্থক্য মনে করিয়ে কুণাল আরও দাবি করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন, যেখানেই হকার সরিয়েছিলেন তাঁদের বিকল্প ব্যবস্থা করিয়ে সরিয়েছে। এখন যেভাবে হকার উচ্ছেদ হচ্ছে, গরীব মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের কর্তব্য। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৬ সালে হকারদের হয়ে রাস্তায় ছিলেন। ২০২৬ সালে তৃণমূল কংগ্রেস হকার পরিবার বাঁচাতে রাস্তায় আছে। হকারদের তুলতে গেলে তাঁদের বিকল্প জায়গা দিতে হবে। এই বুলডোজার রাজনীতি বাংলার মাটি থেকে উপড়ে ফেলতে হবে। আর এই লড়াইয়ের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
Sponsored

আরও পড়ুন : বুকে ব্যথা হলে কার্ডিওলজিস্ট দেখান: রোগী কল্যাণ সমিতির সদস্য পদের আমন্ত্রণ পেয়ে কেন বললেন কুণাল!
Sponsored

শনিবার পার্ক সার্কাসে প্রতিবাদ সভায় দুই বিধায়ক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়। ছিলেন সাংসদ তথা কলকাতা পুরসভার চেয়ারম্যান মালা রায় (Mala Roy), কাউন্সিলর বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায়, সন্দীপরঞ্জন বক্সি প্রমুখ। হকারদের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়ে মালা রায়ের আহ্বান, গরীব মানুষের জন্য সব প্রকল্প তুলে দিচ্ছে। আর এবার গবীর মানুষের পেটে লাথি মারছে হকার তুলে দিয়ে। হকার তুলতে গেলে সুপ্রিম কোর্টের রায় রয়েছে। আমাদের আন্দোলন আরও সুদূর প্রসারী হবে। আমরা বলব সাহস সঞ্চয় করুন।
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







