সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার আলোড়ন ফেলা গুরুত্বপূর্ণ কিছু নাটক তাঁর হাত থেকেই উঠে এসেছে। রাজ্যের মন্ত্রিত্ব সামলানোর পাশাপাশি যেভাবে বাংলার পেশাদারী নাটককে (professional theatre) এগিয়ে নিয়ে চলার স্বপ্ন দেখেন মন্ত্রী, পরিচালক, নাটককার ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) সেখানে একদিকে নতুন প্রতিভাদের প্রতি আরও বেশি করে আত্মোৎস্বর্গের দাবি যেমন রয়েছে, তেমনই তাদেরকে জায়গা করে দেওয়ার জন্য প্রতিষ্ঠিত সমাজের প্রতি দাবিও রয়েছে। ঠিক এভাবেই দৃঢ় পদক্ষেপে বাংলা নাটককে উদার হস্তে আরও দিয়ে যাওয়ার বার্তা ব্রাত্য বসুর।
Sponsored

পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগের আয়োজনে ‘পরিচালকের মুখোমুখি’ অনুষ্ঠানে অকপট ব্রাত্য বসু। বাংলা একাদেমি-তে আয়োজিত এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেন প্রখ্যাত নাট্যসমালোচক অলকপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায় (Alok Prasad Chattopadhyay)। সেখানেই উঠে আসে ব্রাত্যর হাত থেকে বেরিয়ে আসা ‘অশালীন’, ‘ইউঙ্কল টুইঙ্কল’, ‘কৃষ্ণগহ্বর’, ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সংগীত’-এর মত অসামান্য নাটকের প্রসঙ্গ। আর এইসব নাটকের প্রসঙ্গ আসলেই ব্রাত বসুর যে সহযোদ্ধাকে পাশে রাখেন, সেই দেবশঙ্কর হালদারও (Debshankar Halder) এদিন একই মঞ্চে তাঁর পাশে শ্রোতার ভূমিকায় উপস্থিত ছিলেন।
Sponsored

নাটক নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে স্মৃতির স্মরণীতে পাড়ি দেন ব্রাত্য বসু। ১৯৯১ সালের মে মাসে বিধানসভা নির্বাচনের দিন আচমকা অ্যাকাডেমি অফ ফাইন আর্টসের মঞ্চে অভিনয়ের কথা মনে করিয়ে দেন। অ্যাকাডেমির মক্কায় তার আগে তিনি ছিলেন ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক প্লেয়ার। ভোটের দিন শো থাকায় প্রধান চরিত্রাভিনেতার বদলি অভিনেতা হিসাবে তিনি প্রথম মঞ্চে ওঠার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে সেই শুরু। মঞ্চ তাঁকে যে আর ফিরিয়ে দেয়নি তা তাঁর বর্তমান স্বীকৃতিই প্রমাণ করে।
Sponsored

উত্তরণ, খ্যাতি বা প্রাপ্তি কখনোই তাঁকে বাংলা নাটকের শিকড় থেকে যে আলাদা করতে পারেনি তাও স্পষ্ট হয় তাঁর কথায়। বিশ্ববিখ্যাত নাটকের সঙ্গে তুলনা করে বাংলা ভাষায় নাটক পড়ার আনন্দ পাওয়ার কথা তিনি তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে খানিকটা ক্ষোভ তাঁর গলায়। বাংলা থেকে শুরু করে গোটা বিশ্বে নাটকের প্রতি অনাদর নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। কবি থেকে সাহিত্যিকরা বারবার নোবেল পান। সেই তালিকায় নাট্যকারের সংখ্যা এত কম কেন, প্রশ্ন ব্রাত্য বসুর।
Sponsored

Sponsored

বিশ্বে নাটকের প্রতি যে শ্রদ্ধা, বিশেষত পাশ্চাত্যে যে সম্মান রয়েছে, বাংলায়, এমন কি গোটা ভারতে তা অনেকাংশে কম। এমনটাই মত ব্রাত্য বসুর। এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি জানান, এই বাংলায় এখন আর্টের সমঝদার কম। সাংসারিক খরচের হিসাবের, সংস্থানের পরে বই কেনা বা নাটক (theatre) দেখার গুরুত্ব মানুষের জীবনে স্থান পায়। আর ঠিক এভাবেই গোটা ভারতবর্ষে এই শিল্প ফেল করছে, বলে অভিযোগ করেন তিনি। তবে এক্ষেত্রে খানিকটা দায় তিনি বাংলার চলচ্চিত্র পরিচালকদের উপরও চাপান। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি জানান, নায়ক বা নায়িকার ক্ষেত্রে নাটকের লোকেদের কথা এখনও ভাবছে না টলিউডের পরিচালকরা।
Sponsored

-
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







