এবার কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্ব পাবে ইসকন। সোমবার, রাজ্য বাজেটে (WB Budget 2026) এই ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (Swapan Dasgupta)। আর তার পরেই প্রশ্ন ওঠে, তাহলে মিড ডে মিলে পড়ুয়াদের ডিম দেওয়া বন্ধ হচ্ছে? গুজরাত মডেলে স্কুলের খাবার নিরামিষ করার সিদ্ধান্ত চাপানো হচ্ছে কলকাতার সরকারি স্কুলগুলির উপর? তুমুল জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে, রাজ্য বাজেটে প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে (Mid Day-Meal) মিলে বরাদ্দ পড়ুয়া প্রতি ১০ টাকা করা হয়েছে। আগে ছিল ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। উচ্চ প্রাথমিকে বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা ৭১ পয়সা। সেটা অপরিবর্তিত থাকছে।
বাংলায় গুজরাট মডেল: কলকাতার স্কুলে মিড-ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন, শুধুই নিরামিষ খাবার? উঠছে প্রশ্ন
Sponsored

মিড মিলের খাবার নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ উঠত। কখনও খাবার পুষ্টিকর নয়, তো কোথাও খাবারে টিকটিকি থেকে আরশোলা, চালে পোকা। বারবার আঙুল তোলা হত মিড মিলের অপ্রতুল বরাদ্দের দিকে। এবার রাজ্যের প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম বাজেটেই সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি করা হয়েছে। আগে প্রাথমিক স্তরে মিড-ডে মিলে বরাদ্দ ছিল পড়ুয়া প্রতি ৬ টাকা ৭৮ পয়সা। সেটা হয়েছে ১০ টাকা করা হয়েছে। উচ্চ প্রাথমিকে বরাদ্দ ছিল ১০ টাকা ৭১ পয়সা। সেটা অপরিবর্তিত থাকছে। কিন্তু এদিন বাজেট পেশের সময় আরও একটি সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। আর সেটা নিয়েই যত জল্পনা। তিনি বলেন, কলকাতার স্কুলগুলিতে মিড ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ইসকনকে। গুজরাটেও মিড ডে মিলের দায়িত্বে ইসকন (ISKCON)। অন্যান্য কয়েকটি রাজ্যেও মিড ডে মিল সরবরাহ করে থাকে তারা। এরা সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার দেয়।
Sponsored

এই বিষয় নিয়ে বাজেট পেশের পরে সাংবাদিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) জানান, “পাইলট প্রজেক্ট হিসাবে কলকাতার স্কুলগুলির জন্য মিড-ডে মিলের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে ইসকনকে। তারাই খাওয়াবে। খেয়ে দেখুন গুণমানে ভাল। আপনার ইচ্ছা না বলে ‘হরেকৃষ্ণ’ বলবেন না।” এবার প্রশ্ন উঠেছে, স্কুল পড়ুয়ারা পাতে তাহলে ডিম পড়বে কীভাবে? মাঝেমধ্যে তারা যে মুরগির মাংস পেত, সেটাই বা হবে কীকরে? তাহলে কি কলকাতার সরকারি স্কুলগুলিতে জোর করে গুজরাট মডেল চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?
Sponsored

এবিষয়ে, নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, “একই রাজ্যের কোনও পড়ুয়ারা ডিম ও মাংস পাবে, আর কলকাতার পড়ুয়ারা নিরামিষ খাবে। এই বৈষম্য কেন? এই তো সরকার বলছিল তারা মাছ মাংস ও আমিষের বিরুদ্ধে নয়। বাস্তবে এ কেমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে তারা?“ কলকাতার স্কুলের এক শিক্ষকের কথায়, “গুজরাট তো নিরামিষভোজী রাজ্য। সেখানে বিষয়টি নিয়ে কথা উঠবে না। কিন্তু কলকাতার পড়ুয়ারা তো প্রাণিজ প্রোটিন চাইবে। কী খাওয়ানো হবে তাদের?”
আরও খবর: WB Budget 2026-27: রাজ্যে ৪ নতুন বিমানবন্দর তৈরির ঘোষণা, জেলায় জেলায় মেট্রো!
Sponsored

রাজ্য সরকারের অধীনস্থ স্কুলগুলিতে প্রতি সপ্তাহেই ডিম দেওয়া হয়। পুষ্টিগুণের বিচারেই তৈরি হয় মিড-ডে মিলের (Mid Day-Meal) খাদ্যতালিকা। সেখানে বাংলার খাদ্যাভাস অনুযায়ী আমিষ খাবার রাখা জরুরি। কিন্তু যদি খাবারের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া হয়, তা হলে শিশুরা হয়ত শুধু নিরামিষই খেতে পাবে কিন্তু সেটা অনেকের পছন্দ নাও হতে পারে। প্রশ্ন উঠেছে, কোনও সরকার কি এ ভাবে জোর করে খাদ্যাভ্যাস পাল্টে দেওয়ার চেষ্টা করতে পারে?
Sponsored

একই সঙ্গে আশঙ্কায় মিড-ডে মিলেরে রাঁধুনি ও সহযোগীরাও। এদিকে বাজেটে তাঁদের বেতন প্রতি মাসে ১ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। এদিকে কলকাতায় ইসকন মিড ডে মিলের দায়িত্ব নিলে রাঁধুনি ও সহযোগীদের কী কাজ? তাঁদের চাকরিটা আদৌ থাকবে তো? এই এক সিদ্ধান্ত উঠছে হাজারো প্রশ্ন।
Sponsored

-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







