মার্কিন আগ্রাসী নীতির জন্য এবার দ্বিধাবিভক্ত ইউরোপের দেশগুলি। মার্কিন সেনা ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার পরে একাধিক ইউরোপের দেশ আমেরিকাকে সমর্থন জানিয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলা ছাড়িয়ে কিউবা (Cuba), কলোম্বিয়ার (Colombia) দিকে হাত বাড়িয়েছেন ট্রাম্প। সেই সঙ্গে গ্রীনল্যান্ড (Greenland) আমার চাই – এই কথাও স্পষ্ট করে জানিয়ে দিলেন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। এই বার্তার পরেই প্রবল প্রতিবাদের স্বর ইউরোপের কমনওয়েলথ-ভুক্ত দেশগুলির।
লাতিন আমেরিকার পরে এবার গ্রিনল্যান্ড দখল করবে ট্রাম্প! প্রবল প্রতিবাদ ‘ইউরোপের’
Sponsored

তেলের আগ্রাসন জারি লাতিন আমেরিকায়। সেই সঙ্গে কোনওভাবে যাতে রাশিয়া ও চিন আমেরিকার ধারে কাছে না ঢুকতে পারে, তা নিশ্চিত করতে বলির পাঁঠা করা হল ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপতি নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas MAduro)। তবে সেখানেই যে ট্রাম্প থেমে থাকবেন না তার ইঙ্গিত পেয়েছিলেন কলোম্বিয়ার রাষ্ট্রপতি গুস্তাভো পেত্রো (Gustavo Petro)। ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হামলার রাতেই সীমান্তে সেনা মোতায়েন করে কলোম্বিয়া (Columbia)। ট্রাম্প তাঁর উদ্দেশ্যে চোখ রাঙানি দেন। জানান, এবার সাবধান থাকুক কলোম্বিয়া। কিন্তু তাতে কর্ণপাত করেননি পেত্রো। তিনি দাবি করেন, কোনওভাবেই কলোম্বিয়াকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারে না আমেরিকা।
Sponsored

ট্রাম্পের হুমকির পরে অবশ্য আরও একধাপ এগিয়ে গিয়েছেন পেত্রো। তিনি লাতিন আমেরিকার (Latin America) দেশগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন একজোট হওয়ার জন্য। মার্কিন চোখ রাঙানিকে উপেক্ষা করে এক জোট হলেই ভেনেজুয়েলার মতো পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব, বার্তা পেত্রোর। ইতিমধ্যেই কলোম্বিয়ার পরে ট্রাম্পের নজর পড়েছে মেক্সিকো (Mexico) ও কিউবাতেও (Cuba)। ট্রাম্প দাবি করেন, কিউবা ভেঙে পড়তেই চলেছে। ভেনেজুয়েলার তেলের টাকায় কিউবা চলে। এবার আর সেটা তারা পাবে না। ফলে তাদের পতন সময়ের অপেক্ষা। অন্যদিকে মেক্সিকোর রাষ্ট্রপতিকেও মারাত্মক মানুষ বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
Sponsored

ভেনেজুয়েলার উপর দখলদারি যে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অনেক বেশি আত্মবিশ্বাসী করে দিয়েছে, তা আরও একবার প্রমাণিত গ্রীনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে চড়ে ট্রাম্প বিবৃতি দেন, বর্তমানে গ্রীনল্যান্ডকে (Greenland) ঘিরে রয়েছে রাশিয়া আর চিনের যুদ্ধজাহাজ। আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য সেটা খুব বিপজ্জনক। গ্রীনল্যান্ড আমাদের চাই। ডেনমার্ককে (Denmark) এর জন্য কোনও নিরাপত্তা দিতে পারবে না।
Sponsored

ট্রাম্পের এই বার্তার পরেই ইউরোপে শুরু হয়ে গিয়েছে এর পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেট ফ্রেডেরিকসেন দাবি করেন, আমেরিকার গ্রীনল্যান্ড দখলের দাবির কোনও গুরুত্ব নেই। কিংডম অফ ডেনমার্কের মতো গ্রীনল্যান্ডও একটি স্বাধীন সদস্য। গ্রীনল্যান্ডের সঙ্গে আমেরিকার সামরিক চুক্তি রয়েছে। তার দরুণ একটি বড় অংশে আমেরিকার প্রবেশাধিকার রয়েছে। বাকি অংশ নিয়ে কোনও কথা বলার অধিকার আমেরিকার নেই।
Sponsored

Sponsored

ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে ইউরোপের কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলি। কমনওয়েলথ-এর অন্তর্গত এস্টোনিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টেন মিচেল স্পষ্ট করে দেন, গ্রীনল্যান্ডে হাত দিয়ে ডেনমার্কের স্বাধীনতায় হাত দেওয়া যাবে না। এই পরিস্থিতিতে পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সমগ্র ইউরোপকে একজোট হওয়ার ডাক দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইউরোপের শক্তিগুলি অন্তত এই পরিস্থিতিতে একজোট না হলে গোটা বিশ্ব ইউরোপকে দুর্বল বলেই ধরে নেবে। ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে সুইডেন, স্কটল্যান্ড, লাটভিয়া, ফিনল্যান্ড প্রভৃতি পশ্চিম ও উত্তর ইউরোপের দেশগুলি।
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







