রাজধানীতে এগারো বছরের নাবালিকাকে ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ার সরব তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দিল্লিকে 'ধর্ষণের রাজধানী' বলে উল্লেখ করে একযোগে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে আইন শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে তীব্র আক্রমণ করেছেন তৃণমূল সাংসদ। সোশ্যাল মিডিয়ায় তিনি লেখেন, নির্ভয়া ট্র্যাজেডির মতোই, ট্র্যাফিক সিগন্যালে গোলাপ বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহকারী ১১ বছর বয়সী এক নিষ্পাপ মেয়েকে অপহরণ, ধর্ষণ এবং অজ্ঞান অবস্থায় একটি জঙ্গলে ফেলে রাখা হয়। দিল্লি ভারতের ধর্ষণের রাজধানী হিসেবে নিজের জায়গা ধরে রেখেছে। গত ১১ জানুয়ারি প্রসাদ নগর এলাকায় ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে ফুল বিক্রি করছিল কিশোরী। সেই সময় একটি ই-রিক্সা দাঁড়ায়। চালক কিশোরীকে রিক্সায় বসতে বলে এবং জানায়, এমন জায়গায় নিয়ে যাবে যেখানে সব ফুল বিক্রি হয়ে যাবে। এফআইআরে উল্লেখ, এরপর অভিযুক্ত কিশোরীকে একটি নির্জন জঙ্গল এলাকায় নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে কিশোরী সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়লে অভিযুক্ত তাকে মৃত ভেবে পালিয়ে যায়। এই ঘটনার কথা উল্লেখ করে এক্স হ্যান্ডেলে বিজেপি সরকারকে কটাক্ষ করে অভিষেক লিখেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ পরিবর্তনের কথা বলেন। পরিবর্তন শুরু হওয়া উচিত বিজেপি শাসিত রাজ্য থেকেই। যে সরকার মহিলাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে না, শুদ্ধ বাতাস ও পানীয় জল দিতে পারে না, ভয়াবহ বিস্ফোরণ আটকাতে পারে না, তাদের বাংলায় এসে ভোট চাওয়ার অধিকার নেই।' এখানেই শেষ নয়, বিজেপি বিরোধী রাজ্যে কেন্দ্রীয় এজেন্সির অতিসক্রিয়তাকেও কটাক্ষ করেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। বাংলাতে দুর্ভাগ্যজনক কিছু ঘটলে সেটা নিয়ে রাজনীতি করতে কেন্দ্রীয় এজেন্সি আর জাতীয় মহিলা কমিশনের প্রতিনিধিরা চলে আসেন। এবার দিল্লির ঘটনাতেও তাদের সেই তৎপরতা দেখা যাবে তো? এই বিষয়ে গদি মিডিয়াকেও টার্গেট করতে ছাড়েননি সাংসদ। লিখেছেন, ‘আশা করি, এ বার নিজেদের আইনরক্ষাকারী বলে দাবি করা বিজেপি নেতারা সুর চড়াবেন। আশা করি, দিল্লিতে একটি তথ্য অনুসন্ধানকারী দল পাঠানো হবে। আশা করি, জাতীয় মহিলা কমিশন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে। আশা করি, গদি মিডিয়া এই বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ কভারেজ করবে।’ - - - - - - -