রাজ্যের প্রথম 'ডবল ইঞ্জিন' (BJP Govt.) সরকারের সম্প্রসারিত মন্ত্রিসভা সোমবার লোকভবনে শপথ নিলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর (Shuvendu Adhikari) নেতৃত্বাধীন এই সরকারের নতুন ৩৫ জন মন্ত্রীকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল আরএন রবি (RN Rabi)। 'বন্দে মাতরম' এবং জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে শুরু হয় এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। তবে রাজনৈতিক মহলের নজর কাড়লেন উত্তর দিনাজপুরের করণদিঘির নবনির্বাচিত বিধায়ক বিরাজ বিশ্বাস (Biraj Biswas)। মাত্র ৩২ বছর বয়সে রাজ্যের কনিষ্ঠতম মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন তিনি। নবনির্বাচিত ২০৭ জন বিজেপি বিধায়কদের মধ্যেও তিনিই কনিষ্ঠতম।
ছাত্র রাজনীতি থেকে মন্ত্রী: শুভেন্দুর মন্ত্রিসভায় কে রাজ্যের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য
Sponsored

পেশায় আইনজীবী ৩২ বছর বয়সী বিরাজ বিশ্বাসের রাজনৈতিক উত্থান বহুদিনের সাংগঠনিক লড়াই ও আন্দোলনের ফসল। বাবা বিনয় বিশ্বাস। বিরাজ ছাত্রজীবন থেকেই রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (RSS) সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদে (ABVP) যোগ দিয়ে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় হন। নিজের সাংগঠনিক দক্ষতার জোরে তিনি দ্রুত এবিভিপির রাজ্য সম্পাদক হন। পরবর্তীতে রাজ্যের গণ্ডি পেরিয়ে সংগঠনের সর্বভারতীয় সম্পাদকের গুরুদায়িত্ব সামলান বিরাজ। ২০১৯ সালে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ জলপাইগুড়ি ল' কলেজ থেকে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। বিরাজ আইনি লড়াইয়ের ময়দানেও শাসকদলের বিরুদ্ধে অত্যন্ত সোচ্চার ছিলেন। আরও পড়ুন: ত্বিষা মৃত্যু মামলায় নয়া মোড়! CBI-এর হাতে ৩৪ মিনিটের ভিডিও
Sponsored

বিরাজের রাজনৈতিক জীবনের সবচেয়ে বড় টার্নিং পয়েন্ট ছিল দাড়িভিটের ছাত্র আন্দোলন। উর্দু ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে উত্তর দিনাজপুরের দাড়িভিটে যে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তার সামনের সারিতে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বিরাজ। শাসকবিরোধী আন্দোলনের প্রথম সারিতে থাকার কারণে তৎকালীন সরকারের কোপেও পড়তে হয়েছে তাঁকে। 'তৃণমূলের পুলিশ' তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রুজু করে, যার জেরে শিলিগুড়ি থেকে লালবাজার—একাধিক জেলে বন্দি থাকতে হয়েছিল এই তরুণ নেতাকে। তবে এই দমনপীড়ন তাঁর জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং তিনি উত্তরবঙ্গের তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদের প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
Sponsored

২০২৬ সালের বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে দল তাঁর ওপর ভরসা রেখে করণদিঘি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী পদ দেয়। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রভাবশালী নেতা গৌতম পালকে ১৯,৮৬৯ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন বিরাজ। তিনি একাই পান ৯৬,২৬০টি ভোট। এই জয় উত্তরবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তির এক বড় নিদর্শন ছিল। ছাত্র রাজনীতি, রাজপথের আন্দোলন, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং আইনি লড়াইয়ের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে বিরাজের এই উত্থান অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
Sponsored

-
Sponsored

-
Sponsored

-
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







