যাচাইয়ের ভুল, না স্রেফ দায়িত্বজ্ঞানহীনতা? এরকম মাত্র একটিই ঘটনা, না কি রাজ্যজুড়ে অনেক? অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের টাকা গ্রাহকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই ঝুলি থেকে বেরিয়ে পড়ল বিড়াল। প্রকল্পের টাকা ঢুকলো এক পুরুষের অ্যাকাউন্টে। গত কয়েকদিন ধরে যেভাবে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের টাকা পুরুষদের অ্য়াকাউন্টে ঢোকা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি, তারপরে বিজেপির নতুন সরকারের আমলে প্রথম চালু হওয়া অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) টাকা পুরুষের অ্যাকাউন্টে ঢুকতেই ফের সেই একই প্রশ্ন। যদিও নিজের অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢোকায় রীতিমত দুশ্চিন্তায় নদিয়ার (Nadia) বৃদ্ধ। নদিয়ার ভীমপুর থানার অন্তর্গত চাঁদপুর গ্রামের এক চিকিৎসকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢুকে গেল। তিনি কিন্তু কোনমতেই মহিলা নন, এক বৃদ্ধ চিকিৎসক। এমনকি আবেদন না করেই তাঁর অ্যাকাউন্টে এই টাকা ঢুকেছে বলে দাবি তাঁর। এরপরই প্রশ্ন উঠেছে, যেভাবে কড়া যাচাইয়ের মধ্যে দিয়ে এই প্রকল্প শুরুর বড়াই করা হয়েছিল বিজেপির সরকারের তরফে, সেই যাচাই-এর পরেও কীভাবে এই ভুল হয়। এই নিয়ে এবার নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে সরব হল তৃণমূল কংগ্রেস। নদিয়া জেলার ভীমপুর থানার অন্তর্গত চাঁদপুর গ্রামের চিকিৎসক সঞ্জিত বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা ঢোকার পর তিনি জানিয়েছেন, তিনি নাকি এদিন স্থানীয় সাইবার ক্যাফেতে যান বৃদ্ধ ভাতার টাকা এসেছে কিনা সেটা দেখতে। সাইবার ক্যাফেতে গিয়ে অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স চেক করতে তারা জানান পাঁচ হাজার টাকা রয়েছে। সন্দেহ হলে তিনি জানান এই অ্যাকাউন্টে এত টাকা থাকার কথা নয়। তখন জানতে পারেন বার্ধক্য ভাতা ছাড়াও অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার (Annapurna Yojana) তিন হাজার টাকা ঢুকেছে। আরও পড়ুন: আজ থেকেই অ্যাকাউন্টে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা: ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর, একনজরে কারা পাবেন-কারা বাদ চিকিৎসক সাফ জানান এই টাকা তাঁর নয়, এই টাকা যাতে অন্য কোনও গরীব মহিলা পায় সেই ব্যবস্থা যেন করা হয়। সেই টাকা তিনি না তুলে বৃদ্ধ ভাতার টাকা তুলে চলে আসেন। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান ও সদস্যদের জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু এখানেই প্রশ্ন উঠছে কিভাবে এই অন্নপূর্ণা যোজনা টাকা ঢুকল এই ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে। তিনি ফর্ম ভরেন নি, মহিলাও নন তাহলে টাকা ঢুকল কীভাবে? এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিজেপিকে ট্যাগ করে নিজেদের সোশ্যাল হ্যান্ডেলে লেখা হয়, ''অন্নপূর্ণা ভান্ডার কি প্রবীণ নাগরিকদের জন্যও? ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করে, একাধিক দফা যাচাই-বাছাই এবং অন্তহীন প্রশ্নের মুখোমুখি হওয়ার পর, নদিয়ার এই ব্যক্তি কীভাবে অন্নপূর্ণা ভান্ডারের সুবিধা পেলেন? আপনাদের “কঠোর যাচাই-বাছাই” এবং “কোনো ফাঁকফোকর নেই”—এইসব দাবির এই হল নমুনা?'' - - - -