জুনিয়র চিকিৎসকদের বাম-অতিবামপন্থী সংগঠন ছেড়ে বাংলার শাসকদল তৃণমূলের তোলা অভিযোগ প্রমাণ করেছিলেন অনিকেত মাহাত। তবে এবার এককভাবে ক্রাউড ফান্ডিংয়ের ডাক দিয়ে নতুন করে বিতর্কে জড়ালেন তিনি। সরকারি চিকিৎসকের চাকরি ছাড়তে সাধারণ মানুষের কাছে টাকা চেয়ে বসলেন। আবার জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্টের (WBJDF) সঙ্গে তাঁর আত্মার যোগ – এমনটা দাবি করে কার্যত ঘেঁটেই দিলেন সম্পর্কটা। স্বাস্থ্য দফতরের (Department of Health) বিরুদ্ধে মামলা করার জন্য ফের ক্রাউড ফান্ডিংয়ের (crowd funding) জন্য অনিকেতের ডাক নিয়ে জুনিয়র চিকিৎসকদের নেতার মুখোশ ফের খুলে দিল বাংলার শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস।
Sponsored

জুনিয়র ডক্টর্স ফ্রন্ট ছেড়ে বিতর্ক তৈরি করেছিলেন অনিকেত মাহাত (Aniket Mahato)। তারই সাফাই দিতে গিয়ে নিজের তোলা অভিযোগকেই কার্যত অস্বীকার করলেন তিনি। আদতে তিনি সাফাই ফ্রন্ট ছাড়ার জন্য যে দিতে চাননি, তা স্পষ্ট তাঁর মূল বক্তব্যে। শুক্রবার অনিকেত জানালেন তিনি এসআর শিপ পোস্টিং (SRship posting) ছাড়ছেন। আর তার জন্য রাজ্য সরকারকে যে ক্ষতিপূরণ (compensation) দিতে হবে, তার জন্য সাধারণ মানুষের কাছে অর্থ সাহায্য চাইলেন তিনি। সেই সঙ্গে জানালেন রাজ্যের বিরুদ্ধে মামলা লড়তে গিয়ে তাঁর ইতিমধ্যেই বহু ব্যয় হয়ে গিয়েছে।
Sponsored

আর সেখানেই অনিকেতের উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন শাসকদল তৃণমূলের। রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ প্রশ্ন তোলেন, কোনও জেলায় যদি তরুণ চিকিৎসককে রাজ্য পাঠিয়ে থাকে (posting), জেলার মানুষের পরিষেবা দেবেন না? এটা কী করে হতে পারে? একজন তরুণ চিকিৎসক যিনি এত বড় বড় কথা বলছেন আদর্শ নিয়ে, তাঁকে একটা জেলার পোস্টিং দেওয়া হয়েছে। তিনি নেবেন না?
Sponsored

আদতে যে ফ্রন্ট জুনিয়র চিকিৎসকরা তৈরি করেছিলেন, তার আর্থিক তছরুপের তদন্তে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বেরিয়ে এসেছে। অনিকেত আবার সেই প্রশ্ন তুলে দিলেন নিজের জন্য ক্রাউড ফান্ডিংয়ের কথা বলে। ফ্রন্টের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মনে করিয়ে কুণাল জানান, আবার ক্রাউড ফান্ডিংয়ের গল্প! একবার অভয়ার স্মৃতিতে ক্রাউড ফান্ডিং। প্রথমদিকে ব্যক্তিগতভাবে কী সব করল। মানুষ দিলো। সেই টাকা কোথায়? সেই টাকা দিয়ে কী হল? পরে তো অডিটে (audit) দেখা যাচ্ছে ইভেন্ট মেনেজমেন্ট (event management) সংস্থাকে টাকা দেওয়া হল। অভয়ার মৃত্যু নিয়ে আন্দোলন কোনও ইভেন্ট না কী?
Sponsored

আদতে অনিকেতের এসআর শিপ পোস্টিং (SRship posting) ছাড়ার সিদ্ধান্তে তাঁরই মুখোশ খুলেছে, তা স্পষ্ট করে কুণাল ঘোষের অভিযোগ, এখন বলছেন সরকারের চাকরি করব না। তার জন্য সরকারকে আমাকে টাকা দিতে হবে। সরকার ভর্তুকি, আপনার আমার করের টাকায় ডাক্তারদের সরকারি মেডিক্যাল কলেজে পড়িয়েছে। চুক্তি ছিল। সেই চুক্তি ভাঙবেন। আমি জেলায় যাব না, দরকার হলে চাকরি ছেড়ে দেব। এবার মানুষকে বলছেন টাকা দাও। যে টাকাটা রোজগার করবেন, তাঁদের সঙ্গে চুক্তি করবেন তো? ক্রাউড ফান্ডিং শুনলেই যেন মনটা আনচান করে ওঠে।
Sponsored

Sponsored

অনিকেত মাহাতর সঙ্গে ফ্রন্টের সম্পর্কে চিড় নিয়েও কটাক্ষ করতে ছাড়েননি কুণাল। তিনি দাবি করেন, অভয়ার আবেগকে নিজের পছন্দের কেরিয়ারের ঢাল হিসাবে ব্যবহার করা আপত্তিকর। এদের মুখোশটা খুলে গিয়েছে। এখন নিজেরাই বলছে জেডিএফ অগণতান্ত্রিক। এটা তো আমরা প্রথম থেকেই বলেছি। তার জন্য এক বছর বাদে শোকসভা করতে আসার কী হল? প্রত্যেকে ব্যক্তিগত স্বার্থে ওই স্লটে ছিল বলেই এখন কাদা ছোঁড়াছুঁড়ি চলছে।
-
-
-
More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







