বাংলায় নির্বাচনের আগেই লাগাতার আমলা বদল করছে কমিশন। আর তার মধ্যেই রামনবমীতে রাজ্যের একাধিক জেলায় অশান্তির খবর মিলেছে। এই নিয়ে কমিশন ও বিজেপিকে এক বন্ধনীতে রেখে নিশানা করলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Benarjee)। নিজের স্যোশাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে (Social Media Account) অভিষেক স্পষ্ট লেখেন, বিজেপিশাসিত রাজ্যের 'বুলডোজার মডেল' মেনে নেবে না বাংলা। এদিন নিজের স্যোশাল মিডিয়া পেজে অভিষেক (Abhishek Benarjee) লেখেন, ”নির্বাচনের ঘোষণা হওয়ার পরেই কমিশন ব্যাপক প্রশাসনিক রদবদল শুরু করে— যার আওতায় মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি, এডিজি, আইজি, এসপি, ডিএম, কলকাতা পুলিশ কমিশনার এবং এমনকী, কেএমসি (কলকাতা পুরসভা) কমিশনারকেও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। নজিরবিহীন হস্তক্ষেপের উদ্দেশ্য এবং সময়কাল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠছে। এরপর যা ঘটেছে, তা আরও বেশি উদ্বেগজনক। এই রদবদলের আড়ালে ভীতিপ্রদর্শন ও সন্ত্রাসের ঘটনা ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে।” শুক্রবারই মুর্শিদাবাদে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় রঘুনাথগঞ্জ থানা এলাকায়। দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে দুই পক্ষের বেশ কয়েক জন গুরুতর জখম হন। একাধিক জায়গায় বিএনএসএসের ১৬৩ ধারা জারি করা হয়। অভিষেক লেখেন, ”দোকানপাট ভাঙচুর করা হচ্ছে, ধর্মের নামে উত্তেজনা উসকে দেওয়া হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগের মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। বাংলায় ‘বুলডোজার মডেল’ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। বাংলা ঘৃণা ও হিংসার আমদানি করা রাজনীতি চায় না।” অভিষেকের দাবি, রাজ্যে বিভিন্ন উৎসব একযোগে ও ভীতিহীনভাবে পালিত হয়। কোনও ক্ষেত্রেই কোনও হিংসার ঘটনা ঘটে না। তবে গত কয়েকদিনে দৃশ্য পাল্টেছে। তাঁর কথায়, ”গত মাত্র কয়েকটা দিনের মধ্যেই আমরা সেই 'পরিবর্তন'-এর এক উদ্বেগজনক ঝলক দেখতে পাচ্ছি, যা বিপ্লবীদের এই পুণ্যভূমিতে জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।” বাংলার সামাজিক সংস্কৃতির কথা তুলে ধরে অভিষেক লেখেন, পাড়ার আড্ডা, মিলেমিশে উৎসব পালন হয়। দুর্গাপুজো, দীপাবলি, পয়লা বৈশাখ, ঈদ, গুরু নানক জয়ন্তী, বুদ্ধ পূর্ণিমা বা বড়দিন—সব উৎসবই বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে সম্প্রীতির মাধ্যমে পালিত হয়ে এসেছে। শেষে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, এই অস্থির পরিস্থিতির কারা লাভবান হচ্ছে, আর কাদের মূল্য চোকাতে হচ্ছে! - - - - -