পর পর লেনিনের মূর্তি ভাঙার পরে এবার রাতের অন্ধকারে ভেঙে ফেলা হল সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নায়ক সিধু-কানুর মূর্তি। ঘটনাটি ঘটেছে দক্ষিণ দিনাজপুরের (South Dinajpur) বংশীহারি ব্লকের দেউরিয়া এলাকা। ঘটনার তীব্র নিন্দা করে দোষীদের অবিলম্বে শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। সোমবার  নিজের এক্স হ্যান্ডেলে (X-Handle) এই ঘটনাকে “লজ্জাজনক এবং অত্যন্ত উস্কানিমূলক” বলে মন্তব্য করেন তিনি। রাতের অন্ধকারে বংশীহারি ব্লকের দেউরিয়া এলাকায় ভেঙে ফেলা হয় সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নায়ক সিধু-কানুর মূর্তি। সকালে এই ঘটনা নজরে আসতেই এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একাধিক দোকান ও রাজনৈতিক দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। বিশাল পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। সিধু-কানুর ভাঙা মূর্তিক ভিডিও পোস্ট করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। নিজের এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “লজ্জাজনক এবং অত্যন্ত উস্কানিমূলক। দক্ষিণ দিনাজপুরের বাঁশিহারি এলাকায় সাঁওতাল বিদ্রোহের কিংবদন্তি নায়ক সিধু ও কানু মুর্মুর মূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে। এটা শুধু ভাঙচুর নয়, এটি আদিবাসী গর্ব, ইতিহাস এবং বাংলার আদিবাসী সম্প্রদায়ের পরিচয়ের উপর সরাসরি আক্রমণ।“ কোনও রাজনৈতিক দলের নাম না করে অভিষেক লেখেন, “যেসব লোক আদিবাসী কল্যাণের নামে ভোট চায়, আদিবাসী সমাজে পূজনীয় ব্যক্তিত্বদের বারবার অসম্মান করা হলে তারাই চুপ থাকে। বাংলা এই ঘৃণা ও অপমানের রাজনীতি সহ্য করবে না। এই লজ্জাজনক কাজের জন্য দায়ী ব্যক্তিদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে শাস্তি দিতে হবে!“ পোস্টে রাষ্ট্রপতিভবন থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রীর দফতর, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক, রাজ্য পুলিশ, এমনকী রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অফিসকেও ট্যাগ করেন অভিষেক (Abhishek Banerjee)। আরও খবরপুলিশের সামনে আগুন ১০ দোকানে! ডবল ইঞ্জিন দুর্ভোগ তুলে ধরে সরব অভিষেক ১৮৫৫ সালের সাঁওতাল বিদ্রোহে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন দুই ভাই সিধু ও কানু। তবে, তাঁরা শুধু আন্দোলনের নেতা নন, আদিবাসী সমাজের সংগ্রাম ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। সেই কারণে তাঁদের মূর্তি ভাঙচুরের ঘটনায় আদিবাসী সমাজ প্রবল ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। - - - - - -