কেন্দ্রীয় বাহিনীর ধাক্কায় এক বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে গর্জে উঠলেন তৃণমূলের (TMC) সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। দ্বিতীয় তথা শেষ দফার ভোটগ্রহণের দিন হাওড়ার (Howrah) উদয়নারায়ণপুরে ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে বেরিয়ে আর ঘরে ফেরা হয়নি ৮১ বছরের পূর্ণচন্দ্র দলুইয়ের। অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের ধাক্কায় পড়ে গিয়ে মৃত্যু হয় তাঁর। এই ঘটনার পড়েই স্যোশাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে দিয়ে তৃণমূল সেনাপতি বলেন, "ভোর থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে- মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের ওপর হামলা করছে, এমনকী শিশুদেরও আক্রমণ করছে।" বুধবার বলরামপুরের নিজের নির্দিষ্ট ভোটকেন্দ্রে ভোট দিতে যান হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরের কুরিট গ্রামের বাসিন্দা পূর্ণচন্দ্র দলুই। বৃদ্ধ একা হাঁটতে পারেন না। তাই তাঁর ছেলে ভোটকেন্দ্রে নিয়ে যান। কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনী তাঁদের ঢুকতে বাধা দেয়। একাধিকবার বাবাকে নিয়ে ভোট দেওয়ার চেষ্টা করলেও বৃদ্ধকে একা যেতে বাধ্য করে কেন্দ্রীয় বাহিনী। শেষবার দুজনে ভোট দিতে চেষ্টা করলে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা তাঁদের ধাক্কা মারে বলে অভিযোগ। পড়ে যান পূর্ণচন্দ্র ও তাঁর ছেলে তরণী। এরপরই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃদ্ধ। তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। সেই ভিডিও নিজের এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট  করে অভিষেক (Abhishek Banerjee) লেখেন, "অমিত শাহের অধীনস্থ কেন্দ্রীয় বাহিনী বিজেপির ব্যক্তিগত সেনাবাহিনীতে পরিণত হয়েছে—বাংলার মানুষের ওপর লেলিয়ে দেওয়া একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা।" আরও খবর: বাহিনীর অত্যাচারের পরেও দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে তৃণমূল: প্রত্যয়ী দলনেত্রী এর পরেই উদয়নারায়ণপুরে ঘটনা উল্লেখ করে অভিষেক লেখেন, "উদয়নারায়ণপুরে এক বৃদ্ধ তাঁর ছেলের সঙ্গে ভোট দিতে গিয়েছিলেন। এতটাই দুর্বল যে একা হাঁটতে পারছিলেন না, তাই তাঁর ছেলে তাঁকে বুথে ঢুকতে সাহায্য করার চেষ্টা করেন। কেন্দ্রীয় বাহিনী দুজনকেই ধাক্কাধাক্কি ও মারধর করে। বৃদ্ধ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন, তাঁকে দ্রুত আমতা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে পৌঁছানোর পর তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।" এর পরেই গর্জে উঠে অভিষেক লেখেন, "ভোর থেকে এই কেন্দ্রীয় বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের উপর সন্ত্রাস চালাচ্ছে- মহিলাদের চড় মারছে, বয়স্কদের উপর হামলা করছে, এমনকী শিশুদেরও আক্রমণ করছে। এটাই ২০২১ সালের শীতলকুচি মানসিকতা: নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর ঠান্ডা মাথার, নির্মম হিংসা। ২০২১ সালে নিরীহদের রক্তের জন্য বিজেপিকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। ২০২৬ সালে তাদের আরও চড়া মূল্য দিতে হবে।" সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক লেখেন, "আর বাংলায় ঘুরে বেড়ানো জল্লাদদের বলছি: তোমরা কোন রাজ্য থেকে এসেছো, তাতে কিছু যায় আসে না। কোন রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা তোমাদের রক্ষা করছে, তাতেও কিছু যায় আসে না। এই বর্বরতার সঙ্গে জড়িত তোমাদের প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনের মুখোমুখি করা হবে। তোমাদের এই ত্রাসের রাজত্বের অবসান ঘটবে সম্পূর্ণ ধ্বংসের মাধ্যমে।" - - - - -