পাহাড়ি জীবনে মানুষ আর বন্যপ্রাণীর মুখোমুখি হওয়ার ঘটনা নতুন নয়। তবে এমন ঘটনা নতুন করে মনে করিয়ে দেয়, পাহাড়ের প্রকৃতির সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে প্রতিদিনের লড়াইও। দার্জিলিংয়ের দেবকোটা গ্রামের (Devkota village in Darjeeling) ৬৪ বছরের দেবিকা শেরপার (Devika Sherpa) জীবনও তেমনই এক রুদ্ধশ্বাস ঘটনার সাক্ষী হয়ে থাকল। পাঁচ বছরের নাতনিকে বাঁচাতে তিনি একাই প্রায় ঘণ্টাখানেক ধরে হিংস্র চিতাবাঘের (Leopard) সঙ্গে লড়াই করে দেখালেন অসাধারণ সাহসের পরিচয়।
নাতনিকে বাঁচাতে বৃদ্ধার অসাধারণ সাহসের গল্প
Sponsored

ঘটনাটি ঘটেছে দার্জিলিংয়ের লোয়ার ভুটিয়া বস্তি এলাকার (Lower Bhutia Basti area) দেবকোটা গ্রামে। আচমকাই একটি চিতাবাঘ বাড়িতে ঢুকে পড়ে। প্রথমে পোষ্য কুকুর, তারপর পাঁচ বছরের নাতনির দিকে তেড়ে যায় সেটি। সেই সময় বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ছিলেন দেবিকা। নাতনিকে বিপদের মুখে দেখে নিজের প্রাণের কথা না ভেবেই তিনি চিতাবাঘের সামনে আসেন। ঘরে থাকা একটি লাঠি হাতে নিয়ে শুরু হয় জীবন মৃত্যুর লড়াই। দীর্ঘক্ষণ লাঠির আঘাতে চিতাবাঘটিও নিজের ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে। যদিও হামলায় তাঁর মাথাসহ শরীরের একাধিক জায়গায় গভীর ক্ষত হয়েছে। বর্তমানে শিলিগুড়ির ফুলবাড়ির মহারাজা অগ্রসেন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তিনি।
Sponsored

হাসপাতালে শুয়ে দেবিকা বলেন, "তখন মনে হয়েছিল হয়তো আর বাঁচব না। কিন্তু আমার নাতনি নিচে ছিল। আমি যদি লড়াই না করতাম, ওকে বাঁচানো যেত না। তাই শেষ পর্যন্ত লড়েছি।" তাঁর অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই চিতাবাঘের উপদ্রব রয়েছে। একসময় তাঁর ছাগলের খামারের প্রায় সব ছাগলই চিতাবাঘে তুলে নিয়ে গিয়েছিল। বারবার বনদফতরে (Forest Department) অভিযোগ জানানো হলেও স্থায়ী কোনও সমাধান হয়নি। তাঁর প্রশ্ন, বন্যপ্রাণী যখন লোকালয়ে ঢুকে মানুষের উপর হামলা চালায়, তখন সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দায়িত্ব কে নেবে?
Sponsored

ঘটনার পর বনদফতরের একটি দল এলাকায় পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, চিতাবাঘটি এখনও এলাকাতেই কোনো খাদ বা গর্তের মধ্যে লুকিয়ে রয়েছে। বনকর্তাদের দাবি, বাঘটি এখন উত্তেজিত অবস্থায় রয়েছে। এই মুহূর্তে তাকে ধরার চেষ্টা করলে উদ্ধারকারী দলের উপর হামলার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পরিস্থিতি শান্ত হলে নিরাপদে চিতাবাঘটিকে উদ্ধার করে অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাহাড়ে মানুষ ও বন্যপ্রাণীর সংঘাতের এই ঘটনা ফের স্থানীয়দের নিরাপত্তা এবং বনদফতরের ভূমিকা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন তুলে দিল।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

More from শিরোনাম
View All →
আর জি কর-কাণ্ডে ৩ তদন্তকারী IPS-এর সাসপেনশের মেয়াদ বাড়ল
Jul 6

জঘন্যতম অপরাধে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি হবে: কড়া হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রীর, মঙ্গলে বারুইপুরে যাচ্ছেন শুভেন্দু
Jul 6

প্রয়াত লোকশিল্পী তীজন বাঈ, শোকপ্রকাশ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর
Jul 5

১৪৭ কেজি ওজনের সোনা-মোড়ানো রামচরিতমানস উধাও! প্রণামী কাণ্ডে নতুন বিতর্কে রামমন্দির
Jul 5

জিআই স্বীকৃতিতে উজ্জ্বল বাংলার তিন ঐতিহ্য
Jul 5







