[caption id="attachment_492704" align="alignnone" width="100"]
উৎপল সিনহা[/caption]
'চলমান ধ্যান', উৎপল সিনহার কলম
Sponsored

হাঁটার চেয়ে ভালো ব্যায়াম আর নেই। পাশাপাশি থাকবে সাঁতার। কিন্তু পিছন দিকে হাঁটা? এটাও কি ভালো ব্যায়ামের মধ্যে পড়ে ? অবশ্যই পড়ে। পিছনে হাঁটা বা রেট্রো ওয়াকিং ( Retro Walking ) একটি দারুণ কার্যকরী ব্যায়াম, যা শরীরের ভারসাম্য উন্নত করে , পায়ের পেশী ( বিশেষ করে কাফ মাসল ) শক্তিশালী করে এবং হাঁটুর চাপ কমিয়ে ব্যথা কমায়। পিছনে হাঁটা সাধারণ হাঁটার চেয়ে বেশি ক্যালোরি পোড়ায়, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং মস্তিষ্কের সক্রিয়তা ও সমন্বয় বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। ফুসফুস ভালো রাখার ক্ষেত্রেও রেট্রো ওয়াকিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পিছনের দিকে নিয়মিত হাঁটলে শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় একটি নিয়ন্ত্রণ তৈরি হয়, যার ফলে মস্তিষ্কের সচলতা বৃদ্ধি পায়। সামনের দিকে হাঁটার চেয়ে পিছনের দিকে হাঁটায় পায়ের পেশী অন্যভাবে সঞ্চালিত হয়, ফলে পেশী আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং পায়ের স্থায়ী ব্যথা ধীরে ধীরে কমতে থাকে।
Sponsored

গবেষণায় দেখা গেছে, সামনের দিকে হাঁটার তুলনায় পিছনের দিকে হাঁটলে বেশি শক্তি খরচ হয়, যা দ্রুত ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে। আর্থ্রাইটিস বা হাঁটুর ব্যথায় আক্রান্তদের জন্য দারুণ উপকারী এক অভ্যাস হলো পিছনে হাঁটা।
এতে হাঁটুতে চাপ কম পড়ে। যেহেতু পিছনে হাঁটা একটি অস্বাভাবিক হাঁটার ধরন , তাই এটি মস্তিষ্ককে বেশ উদ্দীপিত করে এবং জ্ঞানীয় কার্যকারিতা ( Cognitive Function ) উন্নত করে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে, পিছনে হাঁটার শুরুর দিনগুলোয় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত। উঁচুনিচু বা খানাখন্দে ভরা রাস্তায় পিছনে হাঁটা অভ্যাস করলে বিপদের আশঙ্কা থাকে। তাই, সবসময় মনে রাখা উচিত যে, শুরুতে ধীরগতিতে নিরাপদ ও সমতল জায়গায় বা ট্রেডমিলে ধীর লয়ে এই ব্যায়াম অভ্যাস করতে হয়। এই ব্যায়াম শুরু করার সময় নিরাপত্তা যাচাইকরণ সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। অনেক বয়স্ক মানুষ পিছনে হাঁটা অভ্যাস করে দারুণ ফল পেয়েছেন। শরীরের, বিশেষ করে মাথা ও পায়ের ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে তাঁরা অভূতপূর্ব উপকার পেয়েছেন। তাঁদের শরীর ও মন হয়ে উঠেছে স্বাস্থ্য সচেতন। মনের জোরও বেড়েছে অনেকখানি। দূর হয়েছে বয়সজনিত বিষন্নতা। নতুন করে বাঁচার প্রেরণা পেয়েছেন তাঁরা। যেহেতু দৃষ্টি সমুখপানে এবং গতি পিছনপানে, তাই বেশি সতর্ক থাকতে হয় বয়স্কদের।
Sponsored

এতে সচেতনতা বৃদ্ধির একটা অনুশীলনও হয়ে যায় , যা বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দারুণ প্রয়োজনীয় হয়ে উঠতে থাকে। পিছনে হাঁটা পুরোটাই উপকার। এর কোনো অপকারিতা নেই। মনে রাখতে হবে, শুরুর দিকে একটু অস্বস্তি লাগতে পারে, দেহের ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন মনে হতে পারে। বারবার পিছনে দেখার চেষ্টা করলে ঘাড়ে ও পিঠে ব্যথা হতে পারে। অসাবধান বা অন্যমনস্ক হলে হোঁচট খাওয়া ও পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তবে এসব সমস্যা সহজেই অতিক্রম করা যায়। এবার প্রশ্ন, পিছনে হাঁটার অভ্যাসকে চলমান ধ্যান বলা যায় কি?
Sponsored

চলমান বা চলন্ত ধ্যান হলো, নড়াচড়া বা শারীরিক কার্যকলাপের মাধ্যমে মনকে শান্ত ও বর্তমান মুহূর্তে একাগ্র করার একটি প্রক্রিয়া। এটি সাধারণ স্থির ধ্যানের মতোই মানসিক প্রশান্তি ও সচেতনতা বৃদ্ধি করে, তবে, গোটা প্রক্রিয়াটি চলমান। মানসিক চাপ কমিয়ে মনকে শান্ত রাখা , শারীরিক সচেতনতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধিতে এটি দারুণ সহায়ক হয়ে ওঠে। সেই হিসেবে পিছনে হাঁটা অবশ্যই চলমান ধ্যানের অন্যতম একটি প্রক্রিয়া। ধীরগতিতে হাঁটা, মাইন্ডফুল স্ট্রেচিং ( mindful stretching ) , বা নাচের মাধ্যমে নিজের একাগ্রতা বৃদ্ধি এবং অনুভূতিগুলোর দিকে নজর দেওয়া চলন্ত ধ্যানের পদ্ধতি তথা প্রক্রিয়ার জরুরি অংশ।
Sponsored

আজকের এই অস্থির, অশান্ত এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বে শান্তি ও ভারসাম্য খুঁজে পাওয়া আগেকার সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। মুভিং মেডিটেশন ( Moving Meditation ) বা চলমান ধ্যান মানসিক প্রশান্তি ও শারীরিক সক্ষমতাকে একত্রিত করে মানুষের মন ও শরীরের জন্য সুস্থতার এক সুরেলা মিশ্রণ তৈরি করে। বিশ্বজোড়া কোলাহলের মাঝে ভারসাম্য অর্জনের ক্ষেত্রে চলমান ধ্যান একটি অনন্য পন্থা।
Sponsored

আরও পড়ুন- বসিরহাটে দক্ষিণে বিজেপির ‘ডাক্তার’ প্রার্থী আদতে নেপালের কম্পাউন্ডার! বিস্ফোরক অভিষেক
_
_
_
_
_












