[caption id="attachment_492704" align="alignnone" width="100"]
উৎপল সিনহা[/caption]
'ডুবন্ত টাইটানিক', উৎপল সিনহার কলম
Sponsored

টাইটানিক যখন সমুদ্রের অতলে তলিয়ে যায়,ঠিক তার ১ ঘন্টা ৪০ মিনিট পর রাত ৪টে ১০ মিনিটে সেখানে আসে 'আর এম এস কারপাথিয়া ' নামের একটি জাহাজ। জাহাজটি সমুদ্রের বুকে ভেসে বেড়ানো ৭০০ জন যাত্রীকে উদ্ধার করে সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ নিউইয়র্কে চলে যায়। এই জাহাজটি আসলে যাচ্ছিল উল্টোদিকে। রেডিওতে টাইটানিকের যাত্রীদের আর্ত চিৎকার শুনে জাহাজের ক্যাপ্টেন হাঁটু মুড়ে ডেকের ওপর বসে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন সঠিক দিশা দেখানোর জন্য। তারপর পূর্ণ শক্তি প্রয়োগ করে বরফ ভেঙে এগিয়ে যান টাইটানিকের দিকে। ক্যাপ্টেনের এই অবিস্মরণীয় সিদ্ধান্তের জন্যই ৭০০ জন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। ক্যাপ্টেন ও জাহাজের সমস্ত নাবিক নিজেদের প্রাণের তোয়াক্কা না করে আর্ত যাত্রীদের প্রাণরক্ষায় ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং সফল হন। ইতিহাস আজও তাঁদের কুর্নিশ করে।
টাইটানিক যখন সমুদ্রের গভীরে ধীরে ধীরে তলিয়ে যাচ্ছিল তখন আরো দুটো জাহাজ কাছাকাছি ছিল। কিন্তু তারা কেউই এগিয়ে আসে নি। তাদের একটার নাম ছিল ' স্যাম্পসন ' । মাত্র ৭ মাইল দূরে ছিল সেই জাহাজ। ওরা দেখতে পেয়েছিল টাইটানিকের বিপদ সংকেত। কিন্তু তখন তারা সীল মাছ ধরতে ব্যস্ত, যা বেআইনি। তাদের ধরা পড়ে যাওয়ার ভয় ছিল। তাই ওরা সাহায্য না করে উল্টোদিকে জাহাজের মুখ ঘুরিয়ে পালিয়ে যায়।
Sponsored

দ্বিতীয় জাহাজটার নাম ' ক্যালিফোর্নিয়ান '। মাত্র ১৪ মাইল দূরে ছিল এই জাহাজ। জাহাজের চারপাশে জমাট বরফ ছিল। পরিস্থিতি অনুকূল ছিল না। নিকষ ঘন অন্ধকারে কোনো ঝুঁকি নিতে রাজি ছিলেন না ক্যাপ্টেন। তাই তাঁরা সেই মুহূর্তে ঘুমোতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং ঠিক করেন সকালে ভেবে দেখবেন কিছু করা যায় কিনা। জাহাজের ক্রু ও অন্যান্য কর্মীরা তাদের মনকে এই বলে প্রবোধ দিয়েছিলেন যে ব্যাপারটা সম্ভবত খুব একটা গুরুতর নয়।
Sponsored

হায় টাইটানিক! সেই সময়ের সবচেয়ে বিলাসবহুল জাহাজ। ১৪ এপ্রিল দুপুর ২ টো নাগাদ 'America ' নামের একটি জাহাজ থেকে রেডিও মারফত টাইটানিক জাহাজে খবর আসে যে, টাইটানিকের যাত্রাপথে বেশ বড়ো একটা আইসবার্গ রয়েছে। পরবর্তীতে ' Mesaba ' নামের আরেকটি জাহাজ থেকেও একই ধরনের একটি সতর্কবার্তা পাঠানো হয়। এই সময়ে টাইটানিকের রেডিও যোগাযোগের দায়িত্বে থাকা জ্যাক ফিলিপ্স এবং হ্যারল্ড ব্রিজ দুজনেই এই সমস্ত সতর্কবার্তাকে অপ্রয়োজনীয় মনে করেন এবং অবজ্ঞা করে অন্য কাজে মনোনিবেশ করেন। তাঁরা এই জরুরি সতর্কবার্তা টাইটানিকের মূল নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে পাঠান নি। টাইটানিক দুর্ঘটনার মাত্র ৪০ মিনিট আগে ' S S Californian ' শিপ-এর রেডিও অপারেটর টাইটানিক জাহাজের সাথে যোগাযোগ করে আইসবার্গটি সম্পর্কে বলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু টাইটানিকের রেডিও অপারেটর জ্যাক ফিলিপ্স ক্রুদ্ধস্বরে অন্য কাজে নিজের ব্যস্ততার কথা বলে লাইন কেটে দেন। ফলে এস এস ক্যালিফোর্নিয়ান শিপ- এর রেডিও অপারেটর তাঁর ওয়ার্লেস বন্ধ করে ঘুমাতে চলে যান। বলা চলে তাঁদের এইসব দায়িত্বজ্ঞানহীনতার ফলেই টাইটানিকের সম্মুখে ঘনিয়ে আসে চরম বিপদ। রাত ২ টো থেকে ২ টো ২০ মিনিটের মধ্যে টাইটানিক জাহাজটি সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে যায় আটলান্টিক মহাসাগরের বুকে। ডুবে যাওয়ার মুহূর্তে জাহাজের বৈদ্যুতিক সংযোগ একেবারেই বিকল হয়ে যায়।
Sponsored

১৯১২ সালের ১০ এপ্রিল সাউদাম্পটন থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে টাইটানিক। সেই সময়ে টাইটানিকে যাত্রী ছিল ২২০০ জন এবং কয়েক শত কর্মী। তারপর আরও দু'বার দু' জায়গা থেকে যথাক্রমে ২৭৪ জন এবং ১২৩ জন যাত্রী টাইটানিকে ওঠেন। তখনকার সময়ে ব্রিটেন থেকে নিউইয়র্কে পাড়ি দেওয়া ছিল যথেষ্টই ঝুঁকিপূর্ণ। সমুদ্রপথ ছিল
ভীষণ বিপদসংকুল। সামুদ্রিক ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা সবসময়ই ছিল। টাইটানিক জাহাজের প্রথম শ্রেণীর ভাড়া ছিল ৩১০০ ডলার এবং তৃতীয় শ্রেণীর ভাড়া ছিল ৩২ ডলার। জাহাজে মোট ১০ টি ডেক ছিল। এতেই আন্দাজ করা যায় জাহাজের বিশালতা। জাহাজে লাইফবোট ছিল মোট ২০ টি, যা ১১৭৮ জন যাত্রীকে রক্ষা করতে পারতো। আজ থেকে ১১৩ বছর আগে ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল টাইটানিক জাহাজের মর্মান্তিক সলিল সমাধি হয়।
Sponsored

Sponsored

_
_
_
_
_
_












