গোটা দেশে পশ্চিমবঙ্গই একমাত্র রাজ্য, যেখানে থিয়েটারের জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ বরাদ্দ করা হয়। এই উদ্যোগের নেপথ্যে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, (Mamata Banerjee) এমনটাই জানালেন মিনার্ভা নাট্য সংস্কৃতি চর্চা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)। রবিবার গিরিশ মঞ্চে অষ্টম জাতীয় নাট্য উৎসবের সূচনা করে তিনি জানান, এই উৎসবের জন্য রাজ্য সরকার ৮৩ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করেছে।
জাতীয় নাট্য উৎসবে বড় বরাদ্দ রাজ্যের, মঞ্চে ফিরছে বহুভাষার থিয়েটার
Sponsored

ব্রাত্য বসুর বক্তব্য, ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী সৃজনশীলতার ধারণাকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তাঁর হাত ধরেই রাজ্যের সাংস্কৃতিক জগতে এক নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। সেই ভাবনাকেই সামনে রেখে এ বার নতুন আঙ্গিকে উপস্থাপিত হতে চলেছে জাতীয় নাট্য উৎসব। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজা, অতীন ঘোষ, সংগঠনের সহ-সভাপতি অর্পিতা ঘোষ, দেবাশীষ মজুমদার সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
Sponsored

থিয়েটারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন ব্রাত্য বসু। তাঁর কথায়, প্রযুক্তির দ্রুত উন্নতির জেরে মানুষের স্নায়ু ক্রমশ অস্থির হয়ে উঠছে, যার প্রভাব পড়ছে থিয়েটারের উপর। এই সংকটের মধ্যেও নাটককে বিশেষ মর্যাদায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
Sponsored

আগামী ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত চলবে অষ্টম জাতীয় নাট্য উৎসব। প্রথম দিনের অনুষ্ঠান হবে মধুসূদন মঞ্চে। পাশাপাশি গিরিশ মঞ্চেও নিয়মিত নাটক মঞ্চস্থ হবে। এ বছর মোট ১৭টি থিয়েটার দল অংশগ্রহণ করছে। এর মধ্যে ছ’টি দল বিভিন্ন রাজ্যের, একটি মিনার্ভার নিজস্ব প্রযোজনা এবং বাকি দশটি দল আসছে ভিন রাজ্য থেকে।
Sponsored

সংগঠনের সহ-সভাপতি অর্পিতা ঘোষ জানান, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে দেশের নানা প্রান্ত থেকে বহু দল আবেদন করেছিল। বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বোর্ড সমস্ত আবেদন খতিয়ে দেখে দশটি দলকে বাছাই করেছে। বাংলার পাশাপাশি কন্নড়, তামিল, হিন্দি, ইংরেজি ও মালয়ালম ভাষাতেও নাটক মঞ্চস্থ হবে। সহ-সভাপতির কথায়, মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমতায় আসার পর থেকেই মিনার্ভাকে সাজিয়ে তোলার জন্য এবং নাটককে উচ্চ মানে পৌঁছে দেওয়ার জন্য সংগঠনকে যে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে, তা অভূতপূর্ব। এর ফলেই নাট্যজগত আজ নিজেদের আরও বিস্তৃতভাবে প্রকাশের সুযোগ পাচ্ছে। উঠতি প্রজন্মও সহজে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরার মঞ্চ পাচ্ছে। অনুষ্ঠানে থিয়েটার প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে স্মৃতিচারণায় ফিরে যান মন্ত্রী শশী পাঁজা। ছোটবেলার কথা মনে করে তিনি বলেন, সেই সময় সিনেমা থাকলেও তা ছিল ব্যয়বহুল। সাধারণ মানুষের বিনোদনের অন্যতম পথ ছিল থিয়েটার। সেই আবেগ ও ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই ধরনের উৎসবের গুরুত্ব অপরিসীম।
Sponsored

Sponsored

_
_
_
_
_












