হাওড়া, টিকিয়াপাড়া ও দমদমের পর এবার রেলের উচ্ছেদ অভিযানের কোপ পড়ল শালিমারে। মঙ্গলবার সকাল থেকে শালিমার স্টেশনের বাইরে বেপরোয়া উচ্ছেদ অভিযান চালাল রেল কর্তৃপক্ষ। ৪টি বুলডোজার দিয়ে মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে স্টেশন সংলগ্ন নেপালি বস্তির ১৪২টি ঘরবাড়ি ও দোকানঘর ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জেরে দীর্ঘ ৫০-৬০ বছর ধরে বসবাসকারী হাজারের বেশি মানুষ রাতারাতি মাথার ছাদ হারিয়ে সম্পূর্ণ দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
শালিমারে রেলের বুলডোজার! উচ্ছেদের জেরে রাতারাতি গৃহহীন হাজারেরও বেশি মানুষ
Sponsored

মঙ্গলবার সকাল থেকেই উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে যাতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল বিশাল সংখ্যক রেল পুলিশ, হাওড়া সিটি পুলিশ ও র্যাফ। চার দিক থেকে বুলডোজার এনে বস্তির সমস্ত কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের দাবি, তাঁদের ভোটার কার্ড, বিদ্যুতের সংযোগ— সবই রয়েছে। ছেলেমেয়েরা স্থানীয় স্কুল-কলেজে পড়াশোনা করছে। তা সত্ত্বেও কোনও পুনর্বাসন না দিয়ে এভাবে উচ্ছেদ করায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকার মানুষ। অভিযান চলাকালীন রেলের পদস্থ আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের পদস্থ আধিকারিকরাও উপস্থিত ছিলেন।
Sponsored

বাসিন্দাদের অভিযোগ, শালিমারের এই উচ্ছেদ প্রক্রিয়ার ওপর কলকাতা হাইকোর্টের স্থগিতাদেশ রয়েছে এবং মঙ্গলবারই আদালতে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেই আইনি নির্দেশকে সম্পূর্ণ অমান্য করেই রেল ও রাজ্য প্রশাসনের তরফে এই বেআইনি উচ্ছেদ চালানো হলো। পুনর্বাসন ছাড়া এই নির্মম উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভ দেখান গৃহহীনরা। তাঁদের অভিযোগ, গরিবের পেটে লাথি মেরে বড়লোকদের সুবিধা পাইয়ে দিতেই সম্পূর্ণ অমানবিকভাবে এই বুলডোজার নীতি নেওয়া হয়েছে। এই উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে গোটা শালিমার স্টেশন চত্বরে এদিন ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













