গণতান্ত্রিক লড়াইয়ে হার নিশ্চিত জেনেই কি এখন ভোটার তালিকায় কারচুপি করে জিততে চাইছে বিজেপি? বুধবার কনস্টিটিউশন ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক এই বিস্ফোরক অভিযোগ ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ‘-র। পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন কমিশন বিজেপির নির্দেশে সাধারণ মানুষদের যেভাবে হয়রানি করে চলেছে, তা সকলের সামনে তুলে ধরতে এই সম্মেলন আয়োজন করে ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ‘।
ভোটার তালিকায় কোপ: বাংলাজুড়ে নাগরিকত্ব লুঠের নীল নকশা রুখতে সরব গণমঞ্চ
Sponsored

বুধবার ‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’ এবং ‘ভারত জোড়ো অভিযান’-এর একটি যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন প্রশান্ত ভূষণ, যোগেন্দ্র যাদব, সুমন ভট্টাচার্য, দীপঙ্কর দে। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে লড়াই করতে পারছে না বিজেপি। সেই কারণে কোনও নির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই ভোটার তালিকা সংশোধনীর (SIR) নামে বাংলার বহু বৈধ নাগরিকের নাম ‘ডিলিট’ করে দিয়েছে এবং তাঁদের অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে চাইছে।
Sponsored

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকা থেকে ৯২ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এই সংখ্যাটি ইউরোপের অনেক দেশের মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে সংখ্যালঘু ও নারীদের সংখ্যাই সর্বাধিক। সংখ্যালঘু প্রধান এলাকা থেকেই সুপরিকল্পিতভাবে সর্বাধিক সংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ বক্তাদের। কলকাতা হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত মুসলিম বিচারপতিদের নামও তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকী পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একজন প্রশাসনিক সচিব মুসলিম হওয়ার কারণে তাঁর পরিবারের সদস্যদের নামও ভোটার তালিকা থেকে সম্পূর্ণভাবে মুছে ফেলা হয়েছে। সংখ্যার দিক থেকে এরপরই রয়েছেন নারীরা। মতুয়া অধ্যুষিত এলাকাগুলো প্রথাগতভাবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সেখান থেকেও ইচ্ছাকৃতভাবে নারীদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে- সভা থেকে সরব বক্তারা।
Sponsored

‘দেশ বাঁচাও গণমঞ্চ’-র অভিযোগ, রাজ্যে এই SIR করতে গিয়ে ২২০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাঁদের মধ্যে ৩০ জন বিএলও (BLO)দের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কাজ করার জন্য নিয়োগ করা হয়েছিল এবং ১৯০ জন সাধারণ নাগরিক হয় আত্মহত্যা করেছেন, অথবা চরম আতঙ্ক ও মানসিক চাপের কারণে তাঁদের প্রাণহানি হয়েছে।
Sponsored

বক্তারা অত্যন্ত কড়া ভাষায় সমালোচনা করে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক আবহে বাংলা ভাষায় কথা বলা মানুষদের সরাসরি 'ঘুষপেটিয়া' বা অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দাগিয়ে দিচ্ছে গেরুয়া শিবির। তাঁদের অভিযোগ, যারা বংশপরম্পরায় এই বাংলায় বসবাস করছেন, তাঁদের শুধু ভাষার ভিত্তিতে বা ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে বিদেশি সাজানোর চেষ্টা চলছে। এই 'ঘুষপেটিয়া' তকমা দিয়ে আসলে সাধারণ মানুষের মনে ভয় তৈরি করা এবং বাঙালির গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে বলে তাঁরা দাবি করেন। অসমে যেভাবে নাগরিকদের ‘সন্দেহভাজন ভোটার’ বা ডি-ভোটার তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠানো হয়েছিল, বাংলায় তার পুনরাবৃত্তি করার চেষ্টা চলছে বলে বক্তারা সতর্ক করেন।
Sponsored

এমনকী, সোনালি খাতুনের প্রসঙ্গ টেনে বক্তারা অভিযোগ করেন, জোর করে ‘বাংলাদেশি’ সাজিয়ে সীমান্ত দিয়ে ওপারে পাঠিয়ে দেওয়ার মতনও একটি অমানবিক ঘটনা ঘটেছে। বক্তাদের দাবি অনুযায়ী, তাঁর কাছে এদেশীয় নাগরিকত্বের বৈধ তথ্য থাকা সত্ত্বেও তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে এদেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। এর প্রতিবাদে সরব হন বক্তারা।
Sponsored













