বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই রাজ্য জুড়েই বুলডোজার অ্যাকশন চলছে। কসবা, তপসিয়া, পার্ক সার্কাস-সহ একাধিক এলাকায় অবৈধ নির্মাণ ভাঙার পর এবার শিয়ালদহ উড়ালপুলের নিচে গড়ে ওঠা বেআইনি বাজার ও দোকানপাট তুলে ফেলার কথা জানিয়ে দিল কলকাতা পুরসভা। শিয়ালদহের বিদ্যাপতি সেতু এবং যাদবপুর-সন্তোষপুর সংযোগকারী সুকান্ত সেতুর নিচে থাকা হকারদের আগামী সাত দিনের মধ্যে জায়গা খালি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নোটিশ জারি হতেই শঙ্কায় বহু পরিবার। প্রায় ৩০ বছর ধরে যারা প্রতিটি সরকারের পরিবর্তনের সাথেই মানিয়ে জীপনযাপন করছিলেন আজ, বিজেপি সরকারের জামানায় তাদের অস্তিত্ব চরম সঙ্কটে। ফুল ব্যবসায়ী থেকে খাবারের দোকান সকলেই আজ বিপন্ন।
উড়ালপুলের নিচে এবার বুলডোজার, শিয়ালদহে উচ্ছেদের নোটিশে বিপন্ন হকাররা
Sponsored

প্রতিদিন শিয়ালদহের এই এলাকায় সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের আনাগোনা। অফিসের দুপুরের খাবার থেকে কম খরচে ঘরকন্নার জিনিস, ভরসা এই বাজার। এমতাবস্থায় এই বাজার উচ্ছেদের ঘটনায় ক্রেতা মহলেও দেখা গেল অসন্তোষ। রেলযাত্রীর সমস্যার কথা মানলেও এই সকল ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন পরিকল্পনা সরকারের করা উচিত এমনটাই মনে করছেন তারাও। বলা হচ্ছে, সাধারণ মানুষের চলাচল সহজ করা, যানজট কমানো নিশ্চিত করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। শনিবার কলকাতা পুরসভার পক্ষ থেকে দুই এলাকায় আনুষ্ঠানিক নোটিশ দিয়ে জানানো হয়েছে, এক সপ্তাহের মধ্যে স্বেচ্ছায় অবৈধ দখল সরিয়ে না নিলে কলকাতা পুর কর্পোরেশন আইন, ১৯৮০ অনুযায়ী উচ্ছেদ অভিযান চালাবে। কিন্তু বহু ব্যবসায়ী প্রশ্ন তুললেন সেই নোটিশে না আছে কোন স্ট্যাম্প, না আছে সই।
Sponsored

প্রসঙ্গত, এর আগেও রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেল স্টেশন এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চলেছে। হাওড়া, শিয়ালদহ, দমদম, পার্ক সার্কাস, হাবরা ও যাদবপুর স্টেশন সংলগ্ন অবৈধ দোকানপাট ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এবার সেই অভিযানের পরিধি বাড়িয়ে উড়ালপুলগুলির নিচের দখলদারি সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। তবে এই উচ্ছেদকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে কারণ এর ফলে বাড়বে বেকারের সংখ্যা। পুনর্বাসনের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা নিয়েও বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার পরিকল্পনাও আগামীতে রয়েছে বলেই জানিয়েছেন সিংহভাগ ব্যবসায়ী।
Sponsored

Sponsored

Sponsored

Sponsored













